প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অনলাইন হুমকি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল। এ লক্ষ্যেই আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেটরি কনফারেন্স (আইআরসি) ২০২৬ বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশনের (এমসিএমসি) মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফাহমি ফাদজিল বলেন, অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য আইআরসি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
মালয়েশিয়ার একক পাইকারি নেটওয়ার্ক থেকে দ্বৈত-নেটওয়ার্ক ৫জি মডেলে রূপান্তর নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। ফাহমি ফাদজিল বলেন, বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে একই টেবিলে এনে মতবিনিময়, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ এবং অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করাই সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ফাহমি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে নিরাপদ ডিজিটাল সেবা, জবাবদিহিমূলক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক উদ্ভাবনের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে। তবে নতুন প্রযুক্তি যেন নতুন ঝুঁকি তৈরি না করে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, সম্মেলনে আস্থা, জবাবদিহি ও স্থিতিস্থাপকতা এই তিনটি বিষয়কে আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনলাইন নিরাপত্তা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম যোগাযোগ এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্মেলনে আলোচিত হচ্ছে।
ফাহমি আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনের আলোচনার ভিত্তিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সম্মেলনের ফলাফল আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নসহ (আইটিইউ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরা হবে। মালয়েশিয়া বর্তমানে আইটিইউর কাউন্সিলের সদস্য।
মালয়েশিয়ার স্থানীয় আইন প্রণয়নেও বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অতীতের আলোচনার প্রভাব রয়েছে বলে জানান ফাহমি। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট-এর কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই আইনের মাধ্যমে অনলাইন ক্ষতি প্রতিরোধের পাশাপাশি শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফাহমি ফাদজিল আরো বলেন, উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে সম্মেলনে যেসব আলোচনা হবে, সেগুলো মন্ত্রিসভা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের পর্যায়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে বিদ্যমান আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তা পরবর্তী সময়ে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হতে পারে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রযুক্তির বিকাশ পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার হস্তক্ষেপ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ব্যবহারকারীরা গ্রক এআই ব্যবহার করে অনুপযুক্ত ছবি তৈরি করায় এমসিএমসির নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ফাহমি। তিনি বলেন, প্ল্যাটফর্মটিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে কমিশন এক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন ফাহমি ফাদজিল। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো বার্তা দিতে চাই না যে আমরা প্রযুক্তি বা বিনিয়োগের বিরুদ্ধে। তবে আমরা এমন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ চাই, যা শুধু সুফলই বয়ে আনবে না, ক্ষতিও প্রতিরোধ করবে।’