ভুয়া নথি ব্যবহার করে ২০২১ সালের লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম এর আওতায় বিদেশি কর্মী কোটার অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করেছেন মালয়েশিয়ার একটি আদালত।
বুধবার কোটা ভারুর সেশনস কোর্টে বিচারক দাজুকি আলীর আদালতে দোষ স্বীকার করলে ৪৪ বছর বয়সী জয়নাল আবেদিন সিকদার কাশেম আলীকে এ সাজা দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে তিনি পরে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
মামলায় মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এমএসিসি) পক্ষে কৌঁসুলি মারিয়াহ ওমর এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী শুকরি মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, জয়নাল আবেদিন জেনেশুনেই জাফিরান রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডি প্রতিষ্ঠানের লেটার অব অ্যাওয়ার্ড (এলওএ) জাল করে সেটিকে আসল নথি হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০২১ সালের ২৬ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে শ্রম বিভাগের ই-পিপিএএক্স সিস্টেমের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী কোটার আবেদন সমর্থনে ওই নথি ব্যবহার করা হয়।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এ ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে জয়নাল জয়া কনস্ট্রাকশন এসডিএন বিএইচডির কার্যক্রম তদারকি করে আসছিলেন জয়নাল আবেদিন। বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদনকে সমর্থন দিতে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধিকে ঠিকাদারের কাছ থেকে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড সংগ্রহের নির্দেশ দেন।
তদন্তে দেখা যায়, নথিতে থাকা জাফিরান রিসোর্সেসের মালিকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির অজান্তেই এটি তৈরি করা হয়। নথিটি ভুয়া জেনেও সেটি শ্রম বিভাগের ই-পিপিএএক্স সিস্টেমে আপলোড করার নির্দেশ দেন তিনি। এর মাধ্যমে তাঁর প্রতিষ্ঠান আরটিকে কর্মসূচির আওতায় ৫৫ জন বিদেশি কর্মীর কোটার অনুমোদন পায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে প্রতিটি ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত ফি আদায় করত।
পরে জাফিরান রিসোর্সেসের মালিক নিশ্চিত করেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান কখনোই ওই লেটার অব অ্যাওয়ার্ড ইস্যু করেনি এবং মুখিম পালোহ রাওয়ায় অবস্থিত হাজি ইব্রাহিম আরাউই মসজিদ নির্মাণকাজের জন্য জয়নাল জয়া কনস্ট্রাকশন এসডিএন বিএইচডিকে নিয়োগও দেওয়া হয়নি।