মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তনের আভাস দেখা গেলেও এখনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের নির্ধারিত পাঁচ দফা ঐকমত্য (ফাইভ-পয়েন্ট কনসেনসাস-ফাইভ পিসি)
বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার বলছে, মিয়ানমার সংকট সমাধানে এখনো পাঁচ দফায়ই তাদের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান ভিত্তি।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক আসিয়ান সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর অংশ হিসেবে গত ১৯ মে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে সফর করেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেশটির নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ টিন মাউং সুয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মিয়ানমারের চলমান সংকট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসিয়ানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।
মালয়েশিয়া জানিয়েছে, আলোচনায় পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব পায়—নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ৫ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ, আসিয়ানের সম্ভাব্য সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন।
এ ছাড়া রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সমাধান এবং অনলাইন আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ও উত্থাপন করা হয়।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে মিয়ানমারের জন্য স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ফেডারেল কাঠামো বিবেচনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে দেশটি স্পষ্ট করেছে, নেপিদো সফরকে মিয়ানমারের নতুন সরকারের প্রতি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যাবে না। বরং এটি সংলাপের পথ খোলা রাখা এবং আসিয়ানের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ।
মালয়েশিয়া বলেছে, মিয়ানমার সংকট সমাধানে শুধু সরকারি পক্ষ নয়, সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশটি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি), পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনকে সহিংসতা বন্ধ করে যুদ্ধবিরতিতে আসার আহ্বান জানিয়েছে।