নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংক্রান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্দেশনা যথাসময়ে জাতীয় আইনে বাস্তবায়ন না করায় পর্তুগাল, গ্রিস এবং মাল্টাকে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত নিয়মিত লঙ্ঘন (ইনফ্রিঞ্জমেন্ট) সিদ্ধান্তের প্যাকেজের আওতায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অর্থনীতির সব খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে ইইউ এই নির্দেশিকাটি (Directive 2023/2413) প্রণয়ন করে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গত বছরের ২১ মের মধ্যে নির্দেশিকাটি নিজ নিজ জাতীয় আইনে রূপান্তর করার বাধ্যবাধকতা ছিল। পর্তুগাল ও গ্রিস এই সময়ের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এবং মাল্টাও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ইইউর নতুন ও সুদৃঢ় নিয়মাবলীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ
শুধু পর্তুগাল, গ্রিস বা মাল্টাই নয়, জ্বালানি নীতি ও বিদ্যুতের বাজার সংক্রান্ত সাধারণ নিয়মাবলি বাস্তবায়নে গড়িমসির জেরে আরও কয়েকটি সদস্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন।
ক্রোয়েশিয়া ও পোল্যান্ড: নতুন ইউরোপীয় বিদ্যুৎ বাজার নকশার নিয়মাবলি (Directive (EU) 2024/1711) নিজ নিজ জাতীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত না করায় দেশ দুটিকে ‘যুক্তিযুক্ত মতামত’ (Reasoned Opinion) পাঠিয়েছে কমিশন। নতুন এই নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো ভোক্তাদের জন্য বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো। নিয়মটি রূপান্তরের জন্য দেশগুলোকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল এবং শক্তি ভাগাভাগি (Energy sharing) সংক্রান্ত বিধানগুলোর জন্য ১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময় রয়েছে। জবাব দেয়ার জন্য দেশগুলোকে দুই মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
হাঙ্গেরি: ইন্ট্রা-ইইউ বিনিয়োগকারী-রাষ্ট্র সালিশির নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত নিয়ম ও ইউরোপীয় আদালতের রায় লঙ্ঘন করায় হাঙ্গেরির বিরুদ্ধেও যুক্তিযুক্ত মতামত পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি এমওএল-এর কিছু পদক্ষেপ ইইউর নীতিবিরুদ্ধ বলে মনে করছে কমিশন। দেশটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, নাগরিক ও ব্যবসার সুবিধার জন্য ইইউ আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে তারা সদস্য দেশগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচার আদালতে গড়াতে পারে, যেখানে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার আবেদন করা হতে পারে।