পাকিস্তানে এইচআইভি (HIV) পরিস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট নিবন্ধিত এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৬১ হাজার হলেও প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি, যার একটি বড় অংশ এখনো চিকিৎসার বাইরে রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পাকিস্তানে বর্তমানে মোট এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা আনুমানিক ৮৪ হাজার। এর মধ্যে ২৩ হাজার রোগী এখনো চিকিৎসা বা নিবন্ধনের বাইরে রয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এইচআইভি রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি এইচআইভিকে “মৃত্যুদণ্ড” হিসেবে দেখার ধারণাকে ভুল বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তবে তিনি স্বীকার করেন, সামাজিক কুসংস্কার, সচেতনতার অভাব এবং রোগ গোপন রাখার প্রবণতা এইচআইভি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রী আরও জানান, জনসংখ্যার অনুপাতে পাকিস্তানে প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও বর্তমানে নিবন্ধিত হার মাত্র ০.১ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় ০.৫ শতাংশের তুলনায় কম।
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০২০ সালে ৪৯টি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রায় ৩৭ হাজার ৯৪৪ জনের পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ৬ হাজার ৯১০ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। ২০২৫ সালে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ৯৭-এ পৌঁছায় এবং ৩ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, যেখানে ১৪ হাজার ১৮২ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, ৬৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পের বড় অংশ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং একটি বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, রাজধানী ইসলামাবাদে নিবন্ধিত এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৬১৮ জন, যাদের মধ্যে একটি অংশ স্থানীয় হলেও বাকি রোগীরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রেফার হয়ে এসেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।