মিসরের সিনাই মরুভূমিতে সামরিক বাহিনীর গুলির মহড়া ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ইসরাইল-মিসর সীমান্তে। মহড়ার শব্দ ও সামরিক তৎপরতা সীমান্তের ওপারে ইসরাইলি জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে তুলনামূলক স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই “শীতল শান্তি” ব্যবস্থাকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইসরাইলের সীমান্তবর্তী বসতিগুলোর বাসিন্দারা দাবি করছেন, সীমান্তের খুব কাছাকাছি এই ধরনের সামরিক মহড়া তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। কেউ কেউ এটিকে অতীত সংঘাতের স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মিসরের এই মহড়া পূর্বপরিকল্পিত এবং এটি দুই দেশের সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত সামরিক প্রস্তুতি মহড়া চালানো হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে ইসরাইলের কিছু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহল মহড়ার সময় ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি সংঘাতের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। বরং এটি মূলত মিসরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আগের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব ইসরাইল-মিসর সম্পর্কেও পড়ছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শান্তিচুক্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জ্বালানি খাতে পারস্পরিক নির্ভরতা এখনো সম্পর্ককে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে দেয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও তা এখনই বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করছে না।
সামগ্রিকভাবে সিনাই সীমান্তে মিসরের সামরিক মহড়া ঘিরে ইসরাইলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।