মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাবে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো নতুন করে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন সংকটের ধাক্কা সামলানোর পর ইউরোপ যখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছিল, তখনই মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আবারও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এতে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হিসাব অনুযায়ী, সংকট শুরুর পর থেকে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়ে কয়েক বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শিল্পখাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও পড়ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে যে, ইউরোপ তার জেট ফুয়েলের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে বিমান চলাচল খাতেও সংকট দেখা দিতে পারে।
এদিকে কয়েকটি ইউরোপীয় বিমান সংস্থা ইতোমধ্যে ব্যয় কমাতে ফ্লাইট সংখ্যা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচালন ব্যয় বাড়ছে বলে তারা জানায়।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু আকাশপথেই নয়, সমুদ্র পরিবহন ও মৎস্য খাতেও পড়ছে। উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে অনেক জেলে মাছ ধরার কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ইউরোপীয় কমিশন বলছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস ও সরবরাহ চ্যানেল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোকে সমন্বিতভাবে সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়েছে।