ভারতে গত পাঁচ বছরে আধাসামরিক বাহিনীতে আত্মহত্যার সংখ্যা ৭৩০টি। সরকারি খতিয়ান বলছে, আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে দুই ধরনের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এর মধ্যে একটি হলো আত্মহত্যার প্রবণতা। অন্যটি সময়ের আগেই স্বেচ্ছাবসর বা ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট।
ক্রবার (৬ ডিসেম্বর) এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যসভাকে তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, গত ৫ বছরে ৭৩০ জওয়ান আত্মহত্যা করেছে। অন্যদিকে ৫৫ হাজার জওয়ান হয় চাকরি ছেড়ে দিয়েছে, নয় স্বেচ্ছাবসর নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার কারণ ব্যক্তিগত। তাই এ পরিস্থিতিতে আধাসামরিক বাহিনীর জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ হলো, ১০০ দিনের ছুটিকে আরো বেশি করে কার্যকর করা হোক।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আধাসামরিক বাহিনীর এসব সদস্যকে দীর্ঘসময় ধরে ডিউটিতে থাকতে হয়। কাউকে আবার অনেকক্ষণ না ঘুমিয়েও থাকতে হয়। তাদের জীবনযাত্রা আর পাঁচজন নাগরিকের থেকে অনেকটাই আলাদা। এরই মারাত্মক প্রভাব দেখা যাচ্ছে নানাভাবে।
আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ আত্মহত্যাই জওয়ানদের ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পর সংঘটিত হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আত্মহত্যার কারণ দেখা গেছে, পরিবারের কারো মৃত্যু বা স্ত্রী অথবা স্বামীর মৃত্যু। অপর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, বৈবাহিক জীবনের অশান্তি বা বিবাহবিচ্ছেদ। এছাড়াও, আর্থিক অনটন, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ ঠিকমতো দিতে না পারার কারণেও বেশ কিছু আত্মহত্যার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এই অবস্থায় বিশেষ নীতির কথাও ভাবা হচ্ছে। আধাসামরিক বাহিনীর মানুষরা যাতে পরিবারের সাথে আরো বেশি সময় কাটাতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেয়া জরুরি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই রাজ্যসভায় বলেন, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে মাত্র ৬৩০২ জন সেনা তাদের পরিবারের সাথে ১০০ দিন সময় কাটিয়েছে। ২০২৩ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ৮৬৩৬ জন ও ২০২১ সালে সংখ্যাটি ছিল ৭৮৬৪ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স এ মর্মেই বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছে। যাতে আরো বেশি জওয়ান তাদের পরিবারের সাথে সঠিকভাবে ছুটি কাটাতে পারে, সে ব্যবস্থা করা জরুরি বলে জানিয়েছে টাস্কফোর্স।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস