ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৯টি আসনে হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চূড়ান্ত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নির্বাচন কমিশনের বাছাইপর্ব শেষে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে কিছু আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বাছাইপর্ব শেষে এবং পারস্পরিক সম্মানে কিছু আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সর্বশেষ ২৫৯টি আসনে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করবে; ইনশাআল্লাহ।’
বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, দলটি শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক নির্বাচনি পরিবেশে জনগণের কাছে ইসলামী শাসনব্যবস্থার বার্তা পৌঁছে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিল। রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছিলেন, দলটি শুরুতে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়, যার মধ্যে দুটি বাতিল হয়। বাকি ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয় এবং কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না বলেও ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
গাজী আতাউর রহমান তখন বলেন, ‘আমরা ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেব। ইসলামপন্থি শক্তির সব ভোট এক বাক্সে ফেলতে চাই।’
তবে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের বাছাই ও রাজনৈতিক সমঝোতার বাস্তবতায় কয়েকটি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যার ফলে চূড়ান্তভাবে ২৫৯টি আসনে দলটির প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়।
এর আগে ‘১১ দলের ঐক্য’ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র জানান, ইনসাফের দিক থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুতির আশঙ্কা থেকেই তারা জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘জামায়াতে ইসলামের আমির আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলেছেন। এর পর থেকেই আমাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়-এই নির্বাচন পাতানো হবে কি না।’
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর আসনভিত্তিক কৌশল ও অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।