মালয়েশিয়ায় নাগরিকদের ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে নতুন করে চালু করা হয়েছে ‘রাকায়াত ডিজিটাল’ পোর্টাল। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিকে এআই ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার মালয়েশিয়া এআই টেকওভার ২০২৬ অনুষ্ঠানে নতুন পোর্টালটির উদ্বোধন করেন দেশটির ডিজিটালমন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও। গত ২৮ জুলাই এআই মালয়েশিয়া বেরহাদ চালুর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘোষণার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হলো।
ডিজিটাল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান এআইনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিশেষ করে তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
রাকায়াত ডিজিটাল মালয়েশিয়ার একটি ডিজিটাল লার্নিং হাব। ডিজিটাল মন্ত্রণালয় ও মাইডিজিটাল করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও প্রশিক্ষণ একটি অ্যাকাউন্টের আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল টুল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
পোর্টালটির কার্যক্রম তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে সচেতনতা, সুযোগ এবং প্রয়োগ। সচেতনতা পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি হাবের মাধ্যমে বিনা মূল্যে বিভিন্ন কোর্স করা যাবে। সুযোগ পর্যায়ে ডিজিটাল স্কিলস হাব ও গ্লোবাল লার্নিং পাসের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃত সনদ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। আর প্রয়োগ পর্যায়ে এআই বিল্ডার হাব, ডিজিটাল টুলস হাব ও দক্ষতা যাচাইয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, প্রবীণ, তরুণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদেরও এ উদ্যোগের আওতায় আনা হবে। ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোনো জনগোষ্ঠী যাতে পিছিয়ে না থাকে, সেটিই এর অন্যতম লক্ষ্য।
মালয়েশিয়ার ‘মালয়েশিয়া ডিজিটাল অ্যাকশন প্ল্যান ২০৩০’ এর আওতায় ডিজিটাল দক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের ডিজিটাল সাক্ষরতা নিশ্চিত করা এবং ৭ লাখ কর্মীর নতুন করে দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে ডিজিটাল উন্নয়ন সম্প্রসারণ এবং ৫ হাজার গ্রামীণ ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক লাখ মালয়েশীয় নাগরিক রাকায়াত ডিজিটাল পোর্টালের নির্ধারিত কয়েকটি কোর্স সম্পন্ন করলে আগামী ৩১ আগস্ট থেকে তিন মাসের জন্য বিনা মূল্যে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জেনারেটিভ এআই অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তবে এটি ধাপে ধাপে এবং নির্ধারিত শর্তের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
এ ছাড়া গ্লোবাল লার্নিং পাসের আওতায় এক লাখ মালয়েশীয়কে তিন মাসের জন্য বিনা মূল্যে অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম কোর্সেরায় শেখার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। চার ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। প্রথম ধাপে ২৫ হাজার অংশগ্রহণকারী আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে কোর্স শুরু করবেন। এরই মধ্যে নিবন্ধন শুরু হয়েছে।