ইরান তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে ইরান আলোচনায় আন্তরিক হলে যুক্তরাষ্ট্রও আলোচনায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার ফিলিপাইনে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রুবিও।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে টানা হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
রুবিও বলেন, ‘আমাদের যে সমস্যা হচ্ছে, তা হলো তারা (ইরান) আলোচনায় আন্তরিক নয়। তারা যদি আন্তরিক হয়, আমরাও আন্তরিক। আর যদি তারা আন্তরিক না হয়, তাহলে নিজেদের পাশাপাশি মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন, আমরা তা-ই করব।’
গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি স্থায়ী চুক্তির জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। তবে সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমেনি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, রাতভর ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনার কেন্দ্র, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের দাবি। তেহরান এই জলপথে চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন রুবিও।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি আন্তর্জাতিক জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, জাহাজ চলাচলের জন্য টোল দাবি করে এবং সেই অর্থ না দিলে জাহাজ ধ্বংসের হুমকি দেয় এমন নজির তৈরি হলে তা বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
রুবিও আরও বলেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই জলপথে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।