বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে তার সামনে ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের আমলে লুটপাট হওয়া দেশকে মেরামতের অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে। ‘আমাদের দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে,’ যোগ করেন তিনি।
তবে ১৭ কোটি মানুষের এই দক্ষিণ এশীয় দেশটিকে এগিয়ে নিতে সামনে কাজ সহজ হবে না বলেও সতর্ক করেন তারেক রহমান। তার ভাষায়, ‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, আগের শাসনামলে সাধারণ মানুষের প্রতি অবহেলা করা হয়েছে। ‘স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, জ্বালানি খাতও ধ্বংস হয়েছে,’ অভিযোগ করেন এই শীর্ষ বিএনপি নেতা।
ভোটের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বিএনপি। নিজের কার্যালয়ে প্রয়াত বাবা-মা-জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির নিচে বসে তারেক রহমান বলেন, তিনি নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ‘আমরা জনগণের কাছ থেকে একটি বড় ও স্পষ্ট ম্যান্ডেট (গণরায়) আশা করছি,’ বলেন তিনি।
১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। নির্বাচিত হলে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বার্থই সবার আগে। তবে আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ অন্তত ‘প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’ চায়।