বেলারুশের পটাশ সারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তের পর নোবেলজয়ী, বিরোধী দলীয় নেতাসহ ১২৩ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বেলারুশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে বেলারুশ সরকারের দুই দিনের আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো। ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি রাশিয়াকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের চক্ষুশূল হয় দেশটি। রাশিয়ার মতো বেলারুশের ওপর-ও বহু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা।
তবে ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ইস্যুতে ইউরোপীয়দের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের দূরত্ব বাড়ছে, আর নৈকট্য দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে। সে ধারাতেই এবার বেলারুশের অন্যতম অর্থকরী পণ্য পটাশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে যুক্তরাষ্ট্
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর ১২৩ বন্দিকে মুক্তির অনুমতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আলেস বিয়ালিয়াতস্কি এবং শীর্ষ বিরোধী নেতা মারিয়া কালেসনিকাভা। বিয়ালিয়াতস্কি ২০২১ সালের জুলাই থেকে কারাবন্দি ছিলেন। আর কালেসনিকাভা ২০২০ সালে লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতির সময় গ্রেপ্তার হন।
মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানো মূলত পুতিনের প্রভাব থেকে তাকে কিছুটা দূরে সরানোর একটি প্রচেষ্টা। তবে এ ধরনের উদ্যোগকে বেলারুশের বিরোধী দলগুলো অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখছে।
২০২০ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বেলারুশের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় দেশত্যাগে ব্যর্থ হওয়া প্রায় সব বিরোধী নেতাদের কারাবন্দি করা হয়।