শিরোনাম :
দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত কৃষকদের সুবিধার্থে ব্যর্থ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ কাম্পার ও কুয়ালা কাংসারে পৃথক ক্যাবল চুরির মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ এয়ার ইটাম সশস্ত্র সংঘর্ষ: পেনাং এবং সেলাঙ্গরে অভিযানের পর গ্রেপ্তার আরও ১০ ACC to seek UAE data on Dubai assets of 73 Bangladeshis

মুসলিম জাহানের আবেগ ও শ্রদ্ধার নাম মসজিদে নববী

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০২৪
মুসলিম জাহানের আবেগ ও শ্রদ্ধার নাম মসজিদে নববী
মুসলিম জাহানের আবেগ ও শ্রদ্ধার নাম মসজিদে নববী

পবিত্র কাবা শরিফের পরেই পৃথিবীর সর্বোত্তম ও পবিত্র স্থানের মধ্যে দ্বিতীয় নিদর্শন মসজিদে নববী। নববী অর্থ নবীজির মসজিদ। এই মসজিদের অভ্যন্তরে দক্ষিণে অবস্থিত হযরত (সা.)-এর নূরানী রওযা শরিফ। যা পবিত্র খানায়ে কা’বার পর পৃথিবীর সর্বোত্তম স্থান হিসেবে স্বীকৃত। মসজিদে নববী সৌদি আরবের মদিনা মুনাওয়্যারায় অবস্থিত। মহিমান্বিত এই মসজিদে এক রাকাত নামাজ পড়লে ৫০ হাজার রাকাত কবুল হওয়া নামাজের সওয়াব পাওয়া যায়।

নির্মাণকাল:
রাসুল (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিযরত করেন, তখন এ শহরটির নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। নবীজির আগমনের পর ইয়াসরিব নামটি পবির্তন করে মদিনা নামকরণ করেন। নতুন হিজরতকারীদের মধ্যে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের শূন্যতা দেখা দিলে নবীজি (সা.) নিজেই একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। আর নাম দেন ‘মদীনা মসজিদ’। যা ‘মসজিদে নববী শরীফ’ (সা.) বা মদিনায়ে মুনাওয়ারা হিসেবে পরিচিত। প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৭ মাস।

নির্মাণ প্রক্রিয়া:
পবিত্র মদিনা মসজিদের প্রাথমিক আয়তন ছিল ১০০ হাত বা ৫৬ গজ। মসজিদের ভিত্তি ও দেয়ালের নিম্নভাগ ৩ হাত পর্যন্ত প্রস্তের হিসেবে নির্মিত ছিল। প্রথম পর্যায়ে রৌদ্রে শুষ্ক ইট দ্বারা নির্মিত হয়। এই রৌদ্র শুষ্ক ইট ও সিমেন্ট হিসেবে আল-খাবখাবা উপত্যকা হতে আনিত কাদা দ্বারা তৈরি হয়েছিল। তখন মসজিদের দেয়াল ছিল ৭ হাত উঁচু। এর ছাদকে শক্তিশালী ও মজবুত রাখার জন্য ৩৬টি খেজুর গাছকে স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

মসজিদের ছাদ নির্মিত হয়েছিল খেজুর পাতা দিয়ে। ছাদকে সুন্দর, রৌদ্র ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য খেজুর পাতার উপর কাদামাটির আস্তরণ লেপে দেয়া হয়েছিল। প্রবেশের জন্য ৩টি দরজা ছিল। প্রধান প্রবেশ পথটি ছিল দক্ষিণ দিকে যা দিয়ে মুসল্লিরা প্রবেশ করতেন ও বের হতেন। পশ্চিম দেয়ালে ছিল মসজিদের দ্বিতীয় প্রবেশ পথ যা ‘বাবে রহমত’ নামে স্বীকৃত। তৃতীয় প্রবেশ পথটি ছিল পূর্ব দেয়ালে যা দিয়ে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করতেন। এ জন্য এটির নামকরণ হয় ‘বাব উন নবী (সা.)’।

সংস্কার ও সম্প্রসারণ

নবীজির ইন্তিকালের পর খলিফা হযরত ওমর (রা.) মসজিদটির পরিধি বাড়ান। এরপর হযরত ওসমান গণি (রা.) খেজুর পাতার পরিবর্তে মসজিদের ছাদে সেগুন গাছের কাঠ ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে খলিফা আল্ ওয়ালিদের সময় মসজিদটি আধুনিক ইমারতে পরিণত হয়। ওয়ালিদ সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পবিত্র মসজিদে নববীকে সাজিয়ে তোলেন। ৪ কোণায় ৪টি মিনার নির্মাণ করেন খলিফা আল-ওয়ালিদ। তখন প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ছিল ৫০ হাত ও প্রস্থে ছিল ৮ হাত।

এরপর খলিফা মাহদী আবারো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেন। পরবর্তীতে মামলুক সুলতান কয়েত-বে মসজিদে নববীতে গম্বুজ প্রতিষ্ঠিত করেন। রাসুল সা.-এর ইন্তেকালের ৬৫০ বছর পর্যন্ত তার রওজার উপর কোনো গম্বুজ ছিল না। ১৮১৮ সালে ওসমানি সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ ইটের তৈরি গম্বুজ তৈরি করেন। ১৮৩৭ সালে তার আদেশে গম্বুজটি সবুজ রঙে রাঙানো হয়। সে সময় থেকে এখনো সবুজ গম্বুজের ছায়ায় ঘুমিয়ে আছেন নবীজি।

সর্বশেষ আধুনিকায়নে নববীর নব সজ্জা ও রূপদান করেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে সউদ। এর পরিকল্পনা করা হয় ১৯৪৮ সালে। ১৯৫৩-১৯৫৫ সাল নাগাদ মসজিদ আধুনিকায়ন করা হয়। বিশালকার পবিত্র মসজিদের সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজ পরিবারের।

পবিত্র মসজিদে নববী (সা.) তথা মহানবী (সা.)’র রওজা পাকের দু’পাশেই রয়েছে নবীজির প্রাণপ্রিয় ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর (রা.) ও দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর রাওজা শরীফ।

মসজিদে নববীর বর্তমান আয়তন ৬ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ বর্গমিটার।নববীতে একসঙ্গে ১৮ লাখ মুসল্লির নামাজ আদায় করতে পারেন। হজ ও ওমরাহ পালনের আগে বা পরে মুসল্লিরা পবিত্র মসজিদে নববীতে যান। ইসলামের দ্বিতীয় এই সম্মানিত স্থানে এসে তারা নামাজ আদায়ের পাশাপাশি প্রিয় নবীজির পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করেন এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »