কুয়ালালামপুর, ৬ অক্টোবর ২০২৫: মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি বাদলুর রহমান খানকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের একাংশ ও প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীরা তার অতীত ও বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাদলুর রহমানের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা এবং অভিযোগগুলো “সত্য সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ একজন সুবিধাভোগীর প্রতিক্রিয়া।”
ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বাদলুর রহমান লিখেছেন:

“৫ই আগস্ট পরবর্তী ফ্যাসিস্ট হাসিনার পেতাত্ত্বা ও দোসররা সক্রিয় হয়েছে… হাসিনার কিছু জারজ সন্তান মালয়েশিয়ায় দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে… হলুদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলে নিজেদের হিরো বানানোর চেষ্টা করছে…”
তার এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রবাসী বিএনপি মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কিছু সাংবাদিক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে বাদলুর রহমানের নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের সত্যতা প্রকাশিত হওয়ায় তিনি চাপের মুখে পড়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণ নেতা মিনহাজ মন্ডলের নেতৃত্বে “সত্য প্রকাশের উদ্যোগ”ই বাদলুর রহমানের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালয়েশিয়া বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন,
“বাদল সাহেব প্রকৃত অর্থে কখনোই বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন না। তিনি পূর্বে জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যক্তিগত লাভের আশায় দলবদল করে নেতা হন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“জিয়া পরিবারের সদস্যরা মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন সময়ে তিনি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করেছিলেন।”
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করছে, ২০০৭ সালের এক-এগারো পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্যাতনে বহু তরুণ নেতা বিদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাদের মধ্যেই ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো, যিনি কিছু সময় মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, মালয়েশিয়া বিএনপির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি যাদের মধ্যে বাদলুর রহমানের নামও শোনা যায় তৎকালীন সময়ে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে “কোকোর নিরাপত্তা বিনিময়ে রাজনৈতিক সুবিধা” নিয়েছিলেন।
এই অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও, বিশ্লেষকরা মনে করেন
“বাদলুর রহমান ও তার ঘনিষ্ঠরা জিয়া পরিবারের সুরক্ষার পরিবর্তে নিজেদের অবস্থান ও স্বার্থ রক্ষায় তৎপর ছিলেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এখন সময় এসেছে মালয়েশিয়া বিএনপির বর্তমান কমিটি পুনর্বিবেচনা করার।
তাদের মতে, “যদি আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রবাসী রাজনীতিকের ভূমিকা থাকে, তাহলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ও মালয়েশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় তদন্ত করা উচিত।”
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিএনপির বহু নেতা কর্মী প্রশ্ন তুলছেন,
“তারেক রহমান, যিনি আমাদের বিচক্ষণ নেতা ও আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, তিনি এখনো কীভাবে বাদলুর রহমানের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে নেতৃত্বে রাখছেন?”
প্রশ্ন উঠছে, এটি কি তারেক রহমানের অজ্ঞতা, না কি সরল বিশ্বাস, নাকি রাজনৈতিক কৌশল?
নাকি তিনি সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সত্য প্রকাশের জন্য?
মালয়েশিয়া বিএনপিকে ঘিরে এই বিতর্ক শুধু ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটি প্রবাসী রাজনীতির অন্দরমহলের একটি বড় প্রশ্ন, কে আসলে জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারের প্রতি অনুগত, আর কে স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী?