কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়া বিএনপির বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বের দাবিতে জোরালো হয়ে উঠেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আন্দোলন। এ পরিস্থিতিতে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মাহবুব আলম শাহ ও মোশাররফ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিটির সভাপতি বাদলুর রহমান খানকে ঘিরে নানা বিতর্ক এবং নেতৃত্বে স্থবিরতার অভিযোগে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন, গ্রহণযোগ্য ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের দাবি সামনে আসে।
মাহবুব আলম শাহকে দলীয় নেতাকর্মীরা একজন শিক্ষিত, বিচক্ষণ এবং কর্মীবান্ধব সংগঠক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। বিগত সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি মালয়েশিয়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা যায়।
দলীয় সূত্র দাবি করছে, প্রবাসে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে তার কূটনৈতিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে মোশাররফ দীর্ঘদিন ধরে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা যায়।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, তিনি শুধু রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দলের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, “মাহবুব–মোশাররফ নেতৃত্বে এলে সংগঠনে নতুন গতি আসবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”
তাদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসকেন্দ্রে দক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও সক্রিয় নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন।
বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যক্তিগত বিতর্কের অভিযোগ তুলেছেন কিছু নেতাকর্মী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও কূটনৈতিক অংশীদার হওয়ায় এখানে শক্তিশালী সাংগঠনিক নেতৃত্ব অপরিহার্য। তারা মনে করেন, প্রবাসে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা একদিকে দলকে সুসংগঠিত করবে, অন্যদিকে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে মালয়েশিয়া বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ সমঝোতার ওপর।