সাকিব আল হাসান আর মাশরাফি বিন মর্তুজা ক্রিকেটার নন, তারা এখন রাজনীতিবিদ। দেশে ফিরতে হলে বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের মতো মামলা মোকাবিলা করেই আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু। এ ব্যাপারে ক্রিকেট বোর্ড কোন সহায়তা করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ায় সাকিবের বিরুদ্ধে ২০২৪ জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর মামলা করা হয়। পোশাককর্মী মো. রুবেল হত্যা মামলায় আদাবর থানায় সাকিবকে ২৮ নম্বর আসামী করা হয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে সাকিবের নামে মামলা হয়েছে। এসব ঘটনার পর থেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি।
আওয়ামী লিগের দুবারের সংসদ সদস্য মাশরাফীর বিরুদ্ধে নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও মারধরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের নামে আরেকটি মামলা হয়েছে নড়াইলে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। স্বাভাবিকভাবেই মামলা থাকায় প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না মাশরাফি।
এ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, আমাদের মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সে কিন্তু রাজনীতিতে এসেছে খেলাধুলা ছেড়ে। তারা (সাকিব-মাশরাফি) রাজনীতিবিদ এখন, খেলোয়াড় আরেকটা জিনিস। তাদের উচিৎ রাজনীতিকভাবে জিনিসগুলো মোকাবিলা করা। আইন ফেস করে তারা যদি ক্লিন হয়ে দেশে আসতে পারে, আমরা স্বাগত জানাব।
এর আগে, সাকিবের মামলা মোকাবিলায় বিসিবি থেকে সহায়তার কথা বলা হয়েছিল। ফারুক আহমেদের পর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ক্রিকেট বোর্ড তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন ইতিবাচক আভাস মেলেনি। তামিম ইকবালের নেতৃত্বের অ্যাডহক কমিটি কি পারবে সাকিবকে ফেরাতে? রফিকুল জানালেন, অ্যাডহক কমিটির ভাবনা ভিন্ন।
তার দাবি আওয়ামী লীগের অন্যায়-অবিচারের দায়ভার থেকে মুক্ত নন সাকিব-মাশরাফি। এ প্রসঙ্গে বিসিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আমি যখন একটা রাজনৈতিক দলের ভিতরে ঢুকে যাই, বিশেষ করে এমপি হয়ে যাই তখন কিন্তু যত ধরণের ঘটনা ঘটবে, কিছুটা হলেও তো তাদের দায় আসবেই। তারা (দেশে) এসে আইনকে ফেস করে যদি মনে করে নির্দোষ, তাহলে তারা আবার খেলাধুলায় ফিরতে পারবে।