ওয়াশিংটন,: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান আহ্বানের মধ্যেই প্রযুক্তিটি এমন এক পর্যায়ের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যতের এআই মডেলগুলো সীমিত মানব হস্তক্ষেপে নিজেরাই নিজেদের উন্নত সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
এই বিতর্ক নতুন করে জোরালো হয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Anthropic-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের পর। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর (Claude) কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত কোডের ৮০ শতাংশেরও বেশি এখন এআই নিজেই তৈরি করছে। ২০২৫ সালের শুরুতে এই হার ছিল এক অঙ্কের মধ্যে।
অ্যানথ্রপিকের এআই উন্নয়ন কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমান প্রযুক্তি পাঁচটি ধাপের মধ্যে চতুর্থ ধাপে পৌঁছেছে। এই পর্যায়ে এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড লিখতে, বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করতে এবং অন্য সিস্টেমকে কাজ বণ্টন করতে সক্ষম।
প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, পঞ্চম ও চূড়ান্ত ধাপে এমন স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরি হবে, যারা নিজেরাই নতুন মডেল ডিজাইন, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন করতে পারবে। এর ফলে ভবিষ্যতের এআই ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উত্তরসূরি সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
এদিকে, উন্নত এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন গবেষক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। ২০২৩ সালে Future of Life Institute প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা Elon Musk-সহ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি জিপিটি-৪-এর চেয়েও শক্তিশালী এআই মডেলের উন্নয়ন অন্তত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সেই চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছিল, মানবসদৃশ বুদ্ধিমত্তার কাছাকাছি পৌঁছানো এআই ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকট, ভুয়া তথ্যের বিস্তার এবং মানব নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তি খাতের বাইরে থেকেও এআই উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মে মাসে Pope Leo XIV তাঁর এক বার্তায় এআই উন্নয়ন সাময়িকভাবে থামানোর আহ্বান জানান এবং প্রযুক্তিটিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে দূরে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তবে এসব সতর্কবার্তার পরও এআই খাতে বিনিয়োগের গতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এআই খাতে ব্যয় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২.৫৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। ২০২৭ সালে এই ব্যয় আরও বেড়ে ৩.৪৯ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই বড় হয়ে উঠছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—মানবজাতি কি এই প্রযুক্তিকে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও মানব নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে পারবে, নাকি একদিন এআই নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে শুরু করবে?