কুয়ালালামপুর || ২৫ জুন: আজ এক ঐতিহাসিক রায়ে, আপিল আদালত সর্বসম্মতভাবে মুয়ার সংসদ সদস্য ও MUDA প্রেসিডেন্ট সৈয়দ সাদিক সৈয়দ আবদুর রহমানকে অপরাধমূলক আস্থাভঙ্গ (CBT), তহবিল অপব্যবহার এবং অর্থপাচারের সকল অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে—যার মাধ্যমে ২০২১ সালে শুরু হওয়া রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর একটি মামলার অবসান ঘটলো।
তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল—দাতুক আহমাদ জায়দি ইব্রাহিম, দাতুক আজমান আব্দুল্লাহ ও দাতুক নূরিন বাদারুদ্দিন—কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। আদালত জানায়, সরকারপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রাথমিক ভিত্তির (prima facie) মামলাও গঠন করতে পারেনি।
“ন্যায়বিচারের জয়” — আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া
প্যালেস অব জাস্টিসের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সৈয়দ সাদিকের আইনজীবী দাতুক হিস্যাম তেহ পোহ তেইক রায়টিকে “ন্যায়বিচার ও প্রক্রিয়ার বিজয়” বলে অভিহিত করেন।
“আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আমাদের মক্কেল রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত ১০ লাখ রিঙ্গিতের অর্থে কোনো অসাধুতা করেননি। এক পয়সাও তার ব্যক্তিগত হিসাবে যায়নি,” বলেন তিনি।
“দ্বিতীয় অভিযোগেও প্রমাণিত হয়েছে, টাকাগুলো তার নিজের ছিল—অন্য কারও নয়। ফলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি, এবং সহায়তার অভিযোগেরও ভিত্তি নেই।”
হিস্যাম আরও জানান, আপিল আদালতের বিচারকরা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষার দিক বিবেচনা করেছেন যেগুলো হাইকোর্ট উপেক্ষা করেছিল।
বেলা আস্তিল্লাহর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া মন কাড়ল পুরো জাতির
আদালতে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও গায়িকা বেলা আস্তিল্লাহ, যিনি রায় পড়া মাত্র কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৈয়দ সাদিকের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সমর্থক বেলা রায় ঘোষণার পর তার পরিবার ও আইনজীবী দলকে জড়িয়ে ধরেন, যা মুহূর্তেই পুরো জাতির হৃদয়ে দাগ কাটে।
“আমি শুধু বলতে চাই—স্বস্তি পেয়েছি। ন্যায়বিচার হয়েছে,” বলেন বেলা। “আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে বহু বছর ধরে চিনি এবং সবসময় তার সততার ওপর বিশ্বাস রেখেছি। আজকের রায় প্রমাণ করে—সে নির্দোষ।”
বেলার আবেগঘন এই প্রতিক্রিয়া দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হাজার হাজার নেটিজেন তার আন্তরিকতা, সাহস ও বিশ্বস্ততার প্রশংসা করেন।
এই মামলাটি মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, বিশেষত কারণ এটি একজন তরুণ নেতা ও সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল। ২০২১ সালে Bersatu দলের যুব শাখা ARMADA-এর অর্থ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি শুরু হয়। শুরু থেকেই সৈয়দ সাদিক তার নির্দোষতা বজায় রেখে লড়ে যান।
“এটা শুধু আমার বিষয় নয়,” রায়ের পর এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন সৈয়দ সাদিক। “এটা তাদের সবার বিষয়ে—যারা এখনও বিশ্বাস করে মালয়েশিয়ায় স্বচ্ছ ও নীতিনির্ভর রাজনীতি সম্ভব। আজকের দিনটি ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য একটি বিজয়।”
বেলা আস্তিল্লাহর আদালতে উপস্থিতি ও প্রকাশ্য সমর্থন মালয়েশিয়ার তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিনোদন অঙ্গনে সক্রিয় থাকলেও তিনি সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে বহুবার সোচ্চার হয়েছেন। তাঁর উপস্থিতি তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতি একপ্রকার প্রতীকী সমর্থন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখনো পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানায়নি যে তারা আপিল করবে কিনা। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ও শক্তিশালী প্রমাণ ছাড়া আপিল করা কঠিন হবে।
মালয়েশিয়ার অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক মামলার সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ভাবছে, এই রায় দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে কিনা—বিশেষত তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে।