পুত্রজায়া: মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জিম) বিশেষ অভিযানে মানবপাচার ও ভুয়া ভিসা প্রতারণায় জড়িত ১০ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারী, যিনি ‘Key Malaysia’ নামে ভুয়া ভিসা আবেদন ওয়েবসাইট পরিচালনা করছিলেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, সরকারি ভিসা পোর্টালের আদলে তৈরি ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে eVISA আবেদন গ্রহণ করা হতো। প্রতিটি আবেদনের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত ফি নেওয়া হতো, যা আসল ফি-র দ্বিগুণ বা তিনগুণ। ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজারের বেশি আবেদন এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জমা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতারণার অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের “রেগুলার ভিসা” (৩–৫ কর্মদিবস) ও “আর্জেন্ট ভিসা” (২–৩ কর্মদিবস) নামে দুটি বিকল্প দেওয়া হতো। টাকা পরিশোধের পর অনেক আবেদন বাতিলের ভুয়া নোটিশ পাঠানো হতো এবং লাইভ চ্যাটে তাদের ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকিও দেওয়া হতো।
বাংলাদেশি নারীকে ইমিগ্রেশন রেগুলেশনস ১৯৬৩-এর ধারা ৩৯(বি) অনুযায়ী মানবপাচার আইনে আটক করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তার জন্য তার স্বামীকেও নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া বিন শা’আবান বলেন, “এ ধরনের প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট শুধু সাধারণ মানুষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং ইমিগ্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনআস্থা রক্ষায় মাদানি নীতির আলোকে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”
এর পাশাপাশি সেলাঙ্গরের কাজাং এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে মানবপাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে এক মালয়েশিয়ান দম্পতিকে “ট্রান্সপোর্টার” হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়া তিন ইন্দোনেশীয় পুরুষকে ‘প্রিমিস গার্ড’ এবং আরও চার ইন্দোনেশীয় নাগরিককে অবৈধ অবস্থানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বয়স ২৬ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
তদন্তে জানা গেছে, আটক দু’জন ইন্দোনেশীয় পুরুষ ওভারস্টে করেছেন, আর বাকি পাঁচজনের কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি ছিল না। অভিযানে চারটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, সাতটি মোবাইল ফোন, ১,৪৫৫ রিঙ্গিত নগদ অর্থ এবং একটি আলজা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইন ২০০৭ এবং ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন মালয়েশীয় নারীকে তদন্তে সহায়তার জন্য তলব করা হয়েছে।