লন্ডন, ২১ সেপ্টেম্বর : গাজা যুদ্ধ নিয়ে গভীর হতাশা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এগিয়ে নিতে ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল এবং তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষুব্ধ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশ ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ব্রিটেনের পদক্ষেপ বিশেষ প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দেশটির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
“আজ আমরা ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য শান্তির আশা পুনর্জাগরণ করতে এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে,” ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ লিখেছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে এই সিদ্ধান্ত এলো, যেখানে ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের লন্ডন মিশনের প্রধান হুসাম জোমলট এ সিদ্ধান্তকে “বিলম্বিত হলেও ন্যায্য স্বীকৃতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি শুধু ফিলিস্তিন নিয়ে নয়, বরং ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের একটি পদক্ষেপ। এটি ন্যায়বিচার, শান্তি এবং ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের এক অপরিবর্তনীয় ধাপ।”
স্টারমার জুলাই মাসে সতর্ক করেছিলেন যে, গাজায় যুদ্ধবিরতি না হলে এবং মানবিক সহায়তা প্রবাহিত না হলে ব্রিটেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। কিন্তু সেই সময় থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে এবং গাজায় সামরিক অভিযান আরও তীব্র করেছে।
ব্রিটেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, “দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আশা টিকিয়ে রাখতে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া এখন একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।”
গাজার ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর মিছিল এবং ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি নিয়ে যুক্তরাজ্যের ভেতরে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে স্টারমারের সরকার। সংসদ সদস্য ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন।