ঢাকা, ৬ আগস্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সাম্প্রতিক উত্তাপের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এক জোরালো বক্তব্য দিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে টিএসসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শাখা সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, “বাম সংগঠনগুলো শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী রাজনীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে বর্ণচোরা ষড়যন্ত্র করছে।”
তিনি বলেন, “আজকের টিএসসিতে বামদের উসকানিমূলক ‘মব’ সৃষ্টির যে প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছে, তা ১৯৭১ বনাম ২০২৪ কোনো ঐতিহাসিক পাঠ নয়, বরং একটি নতুন শাহবাগ কায়েম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”

শিবির সভাপতি ফরহাদ বলেন, “আমরা অতীতে শাহবাগ ও বাকশালের বিরুদ্ধে ছিলাম এবং আজও আছি। অতীতে আমাদের হত্যা, গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার হতে হয়েছে। এখন আবার শাহবাগ কায়েম করে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “আজকের প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন বামপন্থি সংগঠনের পোস্টধারী নেতা। তারা ১০-১২টি সংগঠন থেকে মাত্র ২০-২৫ জন নিয়ে উপস্থিত হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ আয়োজনকে বাধাগ্রস্ত করেছে।”
ফরহাদ আরও বলেন, জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ছিল একটি “বিচারিক হত্যাকাণ্ড” এবং এর দায় কেবল শেখ হাসিনার নয়, বরং শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তথাকথিত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোরও।
তিনি বলেন, “মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আজম, দেলোয়ার সাঈদীসহ শহীদ নেতাদের ফাঁসির আদেশ ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। এটি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বৈধীকরণ।”
শিবিরের আয়োজিত ‘আমরাই ৩৬ জুলাই: আমরা থামব না’ শীর্ষক তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচিতে জামায়াত ও বিএনপির প্রয়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। এসব ছবি সরিয়ে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বামপন্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসজুড়ে চলে পাল্টাপাল্টি স্লোগান, বিক্ষোভ ও উসকানিমূলক পরিস্থিতি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রশিবিরের তৎপরতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং বামপন্থি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংঘাত পূর্বের তুলনায় আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
একজন বিশ্লেষক বলেন, “ছাত্র সংগঠনগুলো এখন আবারও ১৯৭১ বনাম ২০২৪, বাকশাল বনাম গণতন্ত্র—এই বয়ান যুদ্ধের ভেতর ঢুকে পড়েছে, যা সামনের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।”