নিউইয়র্ক, ৩০ সেপ্টেম্বর : ফিলিস্তিন প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও এককভাবে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের আগে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অন্যান্য দেশগুলোকে অভিযুক্ত করেন, যারা সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তার দাবি, এসব দেশ আসলে “হামাসকে পুরস্কৃত করেছে।”
ওয়াল্টজ বলেন, “যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে দায়িত্ব চাপাতে হবে সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের ওপর।” তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা পরিষদের “অতিরিক্ত মনোযোগ” সবসময় ইসরায়েলের দিকে, অথচ হামাসের কার্যকলাপ উপেক্ষিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপ-সমন্বয়কারী রামিজ আলাকবারভ বৈঠকে জানান, ২০১৬ সালের প্রস্তাব ২৩৩৪ অনুসারে ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরে (১৮ জুন থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ২০,৮১০টি নতুন বসতি অনুমোদন বা অগ্রসর করেছে ইসরায়েল। একই সময়ে ৪৫৫টি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন স্থাপনা ধ্বংস বা জবরদখল করা হয়েছে, এতে ৪২০ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭৫ শিশু ও ১১৮ নারী রয়েছেন।
আলাকবারভ আরও জানান, গাজায় চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যেই ৭,৫৭৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩৭,২০১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। “২৩ মাসের যুদ্ধের পর গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে,” তিনি সতর্ক করেন।
মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস তার বক্তব্যে বলেন, “ইসরায়েলি বসতিগুলোর কোনো বৈধতা নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূখণ্ড সংকুচিত করছে এবং বেআইনি দখলদারিত্বকে আরও দৃঢ় করছে।”
তিনি আরও বলেন, “গাজার দুর্ভোগ অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। দুর্ভিক্ষ এখন এক মানবসৃষ্ট বিপর্যয়।”
বৈঠকে রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন ও স্লোভেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বক্তব্য রাখে। স্লোভেনিয়ার জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল জবোগার বলেন, সাম্প্রতিক সাধারণ পরিষদে আলোচনার মূল বিষয় ছিল গাজার দুর্দশা এবং সেখানে ভোগান্তি বন্ধের প্রয়োজনীয়তা।
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা ফিলিস্তিনের বৈধতাকে আরও জোরদার করছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমাদ বলেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে জাতিসংঘ প্রস্তাব ২৩৩৪ লঙ্ঘন করছে। “অবৈধ বসতি নির্মাণ, জবরদখল ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকেই নিঃশেষ করতে চাইছে।”
তিনি সতর্ক করেন, “ফিলিস্তিনিদের আর অপেক্ষা করার সময় নেই। শান্তির ভবিষ্যৎ এবং এই পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন আমাদের করণীয়ের ওপর নির্ভর করছে।”