সেবু, ফিলিপাইনস, ১ অক্টোবর : মাত্র আধা মিনিটের কম সময়ের একটি ঝাঁকুনিতে তছনছ হয়ে গেল পুরো প্রদেশ। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় প্রদেশ সেবুতে আঘাত হানে ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, যা অল্প সময়ের জন্য হলেও রেখে যায় ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যু। সরকারি হিসাবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৬৯ জনে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছে বোগো শহরে, রিচার্ড গুইওন (৩৯) ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন ঘরে। হঠাৎ তাদের বাড়ি ধসে পড়ে এবং একটি কংক্রিটের দেয়াল তাদের চাপা দেয়। কিন্তু তাদের ১৭ বছর বয়সী ছেলে, যে বাবার কথামতো ঘুমাতে না গিয়ে বাইরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিল, তাদের মাটি চাপা থেকে উদ্ধার করে। “ও যদি আমার কথা শুনত, আজ হয়তো আমরা বাঁচতাম না,” গুইওন বলেন।
অন্যদিকে মেদেলিন শহরে কৃষক জুনরে আগবোনেস মাঠে ছিলেন বলে বেঁচে যান, কিন্তু ঘরে থাকা তার ১৭ বছরের মেয়ে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যান।
সোগোড শহরে পাহাড়ধসে একটি বাড়ি চাপা পড়ে নিহত হন ৭২ বছর বয়সী জুডিথ কোমেন্দাদর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার কুকুরটি এখনও দড়ি বাঁধা অবস্থায় ঘটনাস্থল ঘিরে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করছে।
সান রেমিগিও শহরে, একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ধসে পড়ায় খেলারত অবস্থায় এক দমকলকর্মী ও তিনজন কোস্টগার্ড সদস্য নিহত হন।
ভূমিকম্পে সড়ক ফেটে গেছে, প্রাচীন গির্জা ধসে পড়েছে, শপিংমল ভেঙে পড়েছে ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। বান্তায়ান দ্বীপে শতবর্ষী ক্যাথলিক চার্চের ঘণ্টাঘর ভেঙে পড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাকটান-মান্ডাউয়ে সেতু ভয়াবহভাবে দুলছে, মোটরসাইকেল আরোহীরা সেতুর রেলিং আঁকড়ে ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
সেবু শহরে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মাঝপথে থেমে যায়। ঝাড়বাতি দুলতে শুরু করলে প্রতিযোগীরা মঞ্চ ছেড়ে দৌড়ে পালান। জনপ্রিয় ফাস্টফুড ব্র্যান্ড ম্যাকডোনাল্ডস ও জোলিবির কয়েকটি শাখা ধসে পড়ে।
বুধবার সকালে বোগো শহরের সেবু প্রাদেশিক হাসপাতালে মৃতদেহে ভর্তি ডজনখানেক ব্যাগ বৃষ্টিভেজা রাস্তায় সারি সারি পড়ে থাকতে দেখা যায়। শোকাহত স্বজনদের কান্না ঢেকে দেয় টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দ।
এক পিতা ছুটে আসেন সেবু শহর থেকে, কিন্তু এসে দেখেন ভূমিধসে চাপা পড়ে তার দুই সন্তান মারা গেছে। স্ত্রীকে উদ্ধার করা হলেও তার একটি পা ভেঙে গেছে।
বেঁচে যাওয়া অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছেন। মেরি রোজ পেপিটো লরন বলেন, “আমরা প্রাণে বেঁচেছি, কিন্তু আমাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা, গাড়ি, এমনকি গবাদিপশুও হারিয়েছি। এখন আমরা কীভাবে বাঁচব?”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।