২৫ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার : থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঐতিহাসিক প্রাহ্ বিহার মন্দির এবং চোং বোক এলাকা ঘিরে শুক্রবার ভোর থেকে দুই দেশের বাহিনী ব্যাপক গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়েছে। সংঘর্ষের এটি দ্বিতীয় দিন।
সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর ০৪:৩০ মিনিটে, কাম্বোডিয়ান বাহিনী প্রাহ্ বিহার মন্দিরের আশেপাশে অবস্থানরত থাই সেনাদের ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়।
এর কিছুক্ষণ পর, ০৪:৫০ মিনিটে, থাইল্যান্ডের ২৬তম রেঞ্জার টাস্ক ফোর্স রিপোর্ট করে যে ছয়টি কাম্বোডিয়ান ট্যাংক চোং প্লড তাং এলাকায় সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছে (অবস্থান কো-অর্ডিনেট: 5298887609)।
০৪:৫৪ মিনিটে, কাসায়চুয়েক সেক্টরে এখনও সরাসরি সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
০৫:২৫ মিনিটে, চোং বোক এলাকায় থাই সেনারা কাম্বোডিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে আর্টিলারি হামলা চালায়।
সর্বাধিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ০৬:২৯ মিনিটে, যখন কাম্বোডিয়ান বাহিনী হিল ৪৬৯ দখলের লক্ষ্যে বড় ধরনের হামলা চালায়। তারা দক্ষিণ চোং বোক এলাকা থেকে মর্টার ও আর্টিলারি হামলা শুরু করে, থাই বাহিনীর হিল ৪০৮ ঘাঁটি লক্ষ্য করে। কাম্বোডিয়ান বাহিনী চম খসান জেলা থেকে BM-21 মাল্টিপল রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে থাইল্যান্ডের সাম তায়েক এলাকায় গুলি চালায়।
এর জবাবে থাই সেনারা ১৫৫মিমি আর্টিলারি ব্যবহার করে পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং কাম্বোডিয়ার গোলাবর্ষণের হুমকি নিরসনের চেষ্টা করে।
এছাড়া থাই গোয়েন্দা ইউনিট কাসায়চুয়েক সীমান্ত অঞ্চলে কাম্বোডিয়ান সেনা চলাচল শনাক্ত করে। এই এলাকা ২১তম ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের আওতাভুক্ত। থাইল্যান্ডের ২য় আর্মি রিজিয়নের অধীনে থাকা কংচাক এলাকার বিশেষ বাহিনী দ্রুত পাল্টা হামলা চালায়।
দুই দেশের মধ্যে চলমান এই সংঘর্ষ আশঙ্কাজনকভাবে বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে সংঘর্ষের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে, আসিয়ান চেয়ার হিসেবে মালয়েশিয়া ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
উত্তপ্ত সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় পুরো অঞ্চল জুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার ওপর।