ঢাকা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই লক্ষ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রতীকসহ ব্যালট পেপার বিদেশে পাঠানো হবে, বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের এক সভা শেষে সংবাদিকদের তিনি জানান, প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে। এ সংক্রান্ত অবহিতকরণ কার্যক্রম আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হবে।
সানাউল্লাহ বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম ভাগে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং তফসিল ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যেসব নাগরিক ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন, তারা এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আজ সকালে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান কাজ।” বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, “৫ আগস্ট প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে, আজ থেকে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু। এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন।”
এছাড়া গতকাল (৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো একটি চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অনুরোধ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের রমজানের আগেই নির্বাচন শেষ করতে যেন সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে ডিপফেইক, এডিটেড ভিডিও বা অডিও, মিথ্যা ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ এসব কাজে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হবে।
ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, আচরণবিধিমালার নতুন খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থী বা রাজনৈতিক নেতার চেহারা বিকৃত করে প্রচার চালানো যাবে না। একইসঙ্গে ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্রের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের দিন।
গত ২৯ জুন ইসি যে খসড়া আচরণবিধিমালা প্রকাশ করেছিল, তাতে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সাধারণ দিকনির্দেশনা ছিল। তবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত খসড়ায় প্রযুক্তিনির্ভর অপব্যবহার রোধে বিস্তারিত বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, সময়োপযোগী ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা বালট পেপার প্রিন্টিং থেকে প্রচারণা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট থাকবে।
এই উদ্যোগগুলো আগামী সংসদ নির্বাচনকে প্রযুক্তিনির্ভর হলেও অপব্যবহারমুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার একটি স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।