শিরোনাম :
দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত কৃষকদের সুবিধার্থে ব্যর্থ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ কাম্পার ও কুয়ালা কাংসারে পৃথক ক্যাবল চুরির মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ এয়ার ইটাম সশস্ত্র সংঘর্ষ: পেনাং এবং সেলাঙ্গরে অভিযানের পর গ্রেপ্তার আরও ১০ ACC to seek UAE data on Dubai assets of 73 Bangladeshis

প্রতিবেশীর হক: মানবিক সমাজ গঠনে ইসলামের এক অনন্য শিক্ষা

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫

ইসলাম একটি সর্বাঙ্গীণ জীবন ব্যবস্থা যা শুধু আল্লাহর ইবাদত নয়, বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দিকেও গভীরভাবে গুরুত্ব দেয়। সেই দায়িত্বগুলোর অন্যতম হলো প্রতিবেশীর হক (অধিকার) রক্ষা করা। ইসলাম প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কুরআনের আলোকে প্রতিবেশীর অধিকার

পবিত্র আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“আর তোমরা উপাসনা কর আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় প্রতিবেশী ও অচেনা প্রতিবেশীর সঙ্গেও সদ্ব্যবহার কর।”

— (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা প্রতিবেশীর অধিকারকে পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরেই স্থান দিয়েছেন, যা তার গুরুত্বের প্রমাণ বহন করে।

হাদীসের আলোকে প্রতিবেশীর মর্যাদা

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার প্রতিবেশীর ক্ষতি না করে।” — (সহিহ বুখারি)

আরেক হাদীসে তিনি আরও বলেন—

“জিবরাইল (আ.) প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার করতে এত বেশি উপদেশ দিয়েছেন যে, আমি ধারণা করেছিলাম তিনি হয়তো প্রতিবেশীকেও উত্তরাধিকারী করে দেবেন।” — (সহিহ মুসলিম)

এই হাদীসগুলো স্পষ্ট করে যে, ইসলাম প্রতিবেশীর প্রতি এমনই ভালোবাসা ও সহানুভূতি শিক্ষা দেয় যা রক্তের সম্পর্কের সীমানাও ছাড়িয়ে যায়।

ইসলামী শিক্ষার আলোকে প্রতিবেশীর হকের মধ্যে রয়েছে—

  • কষ্টে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো
  • ক্ষতি না করা বা অপমান না করা
  • প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা
  • অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া
  • আনন্দের সময় শুভেচ্ছা জানানো এবং বিপদে সহমর্মিতা প্রকাশ করা
  • নিজের কাজ বা আচরণে তাদের অসুবিধা না করা

ইসলাম মনে করে, একজন প্রকৃত মুমিন তার প্রতিবেশীর ক্ষতি করতে পারে না। সমাজে ন্যায়, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতিবেশীর হক আদায় অপরিহার্য। কারণ একজন ভালো প্রতিবেশী সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা সৃষ্টি করে, আর খারাপ প্রতিবেশী অস্থিরতা বাড়ায়।

বর্তমান সময়ে নগরায়ণ, ব্যস্ততা ও পারস্পরিক যোগাযোগহীনতার কারণে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। অথচ ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, প্রতিবেশীই প্রথম মানবিক সহায়তার হাত। তাই ইসলামের এই নৈতিক নির্দেশনা সমাজে মানবতা, সহযোগিতা ও শান্তি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেশীর হক রক্ষা শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি মানবিকতার পরীক্ষাও।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “সে ব্যক্তি ঈমানদার নয়, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়।”

অতএব, ইসলামের সত্যিকারের চেতনা হলো এমন সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিবেশী শুধু আশেপাশের মানুষ নয়, বরং একে অপরের নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সহানুভূতির অংশীদার।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »