রেজুয়ানা বিনতে রেজা । বিজ্ঞান ডেস্ক।
নাসা নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যে পাথরখণ্ডটি (গ্রহাণু) আবিষ্কার করেছেন, সেটি আসলে পৃথিবীর একটি ‘কোয়াজি-মুন’—অর্থাৎ এক ধরনের অস্থায়ী উপগ্রহ, যা পৃথিবীর সঙ্গে প্রায় একই কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
এটি আমাদের প্রকৃত চাঁদ নয়, তবে পৃথিবীর গতির সঙ্গে প্রায় পুরোপুরি মিল রেখে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করায় দূর থেকে মনে হয় যেন এটি পৃথিবীর ছায়ার মতো সঙ্গে চলছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, এই মহাজাগতিক বস্তুটির আকার খুব ছোট—প্রায় ১৮ থেকে ৩৬ মিটার চওড়া, অর্থাৎ একটি ছোট ভবনের উচ্চতার সমান। আকারে ছোট হলেও, এটি পৃথিবীর মহাকাশ প্রতিবেশে বিশেষ গুরুত্ব রাখে।
তবে চাঁদের মতো এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে বাঁধা নয়। বরং একে বলা যায়—একজন দৌড়বিদের মতো, যে আপনার পাশে সমান তালে দৌড়াচ্ছে কিন্তু কখনো ছুঁয়ে যাচ্ছে না।
এই গ্রহাণুটির নাম “২০২৫ PN7”। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি প্রায় ৬০ বছর ধরে পৃথিবীর পাশে চলছে এবং বর্তমান কক্ষপথ ঠিক থাকলে ২০৮৩ সাল পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই থাকবে। এরপর এটি ধীরে ধীরে দূরে সরে গিয়ে মহাকাশে মিলিয়ে যাবে।
এর কাছাকাছি আসার সময় এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে—যা চাঁদের দূরত্বের প্রায় ১০ গুণ। আবার সবচেয়ে দূরে গেলে ১৭ মিলিয়ন কিলোমিটার পর্যন্ত সরে যায়। সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ টানের কারণেই এভাবে দূরে-সামনে দুলতে থাকে।
এই ছোট সঙ্গীকে খুঁজে বের করা মোটেও সহজ ছিল না। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী নিয়মিত টেলিস্কোপ জরিপের সময় আকাশে এক ক্ষীণ আলোর বিন্দু দেখতে পান। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেটি পৃথিবীর সঙ্গে একই গতিতে সূর্যকে ঘুরছে। কয়েক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণের পর নাসা নিশ্চিত করে—আমাদের পৃথিবীর একটি নতুন অস্থায়ী মহাকাশ সঙ্গী পাওয়া গেছে।
এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা মোট ৮টি কোয়াজি-মুন শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি এমন আবিষ্কার পৃথিবীর আশেপাশের মহাকাশ ও গ্রহাণুর গতি সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়।
এই ধরনের গ্রহাণু শুধু কৌতূহল জাগানো নয়, বিজ্ঞানীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র। এগুলো কাছাকাছি, তুলনামূলক স্থিতিশীল, এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের পরীক্ষামূলক স্থান হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
যদিও ২০২৫ PN7 কখনোই চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে না, তবুও এটি আমাদের সঙ্গে আছে—এক নিঃশব্দ ভ্রমণসঙ্গী, যে সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘুরছে, কক্ষপথের পর কক্ষপথ