মালয়েশিয়ার ৬৯তম জাতীয় দিবস উদযাপনে পুত্রাজায়ার আকাশ দখলে নিলো দেশের সশস্ত্র বিমান বাহিনীর রোমাঞ্চকর এয়ার শো। ‘রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্স’ বা RMAF-এর ফাইটার জেটের বিকট গর্জন ও সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রদর্শনী, উপস্থিত হাজার হাজার দর্শককে বিমোহিত করে। জাতীয় দিবস উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই অ্যারোবেটিক প্রদর্শনী।
সোমবার সকাল ঠিক ৯টা ৩০ মিনিটে পুত্রাজায়ার আকাশ প্রকম্পিত করে শুরু হয় ১০ মিনিটের এই ঐতিহাসিক অ্যারোবেটিক শো। জাতীয় প্রতিরক্ষার সক্ষমতা ও প্রস্তুতির প্রতীক হিসেবে চারটি সুখই Su-30MKM ও চারটি F/A-18D হর্নেট এবং তিনটি BAE হক ২০৮ ফাইটার জেট গতি ও কৌশলের এক অপূর্ব প্রদর্শনী উপস্থাপন করে।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুখই Su-30MKM-এর ককপিটে বসে এই সম্পূর্ণ এয়ার শোর নেতৃত্ব দেন মালয়েশিয়ান বিমান বাহিনীর প্রধান, জেনারেল তান শ্রী মুহাম্মদ নোরাজলান আরিস।
আকাশসীমাকে ক্যানভাস বানিয়ে ফাইটার জেটগুলো কাইট, ডায়মন্ড, ডেল্টা এবং ভিক্টরি কম্বাইনের মতো বিশেষ কোরিওগ্রাফ করা ফরমেশনে উড়ে যায়। পুরো প্রদর্শনী চলাকালীন গ্রাউন্ড থেকে মেজর প্যাট্রিক দিনেশ, মেজর নেনি সুহাইদা এবং ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ ইকবাল বিমানে উড্ডয়ন ও বিভিন্ন প্রদর্শনী নিয়ে দর্শকদের জন্য ধারাবিবরণী প্রদান করেন।
ফাইটার জেটের পর আকাশে দেখা মেলে RMAF-এর কৌশলগত পরিবহন বিমানগুলোর—যার মধ্যে ছিল C-130H হারকিউলিস, A400M অ্যাটলাস এবং CN235। পাশাপাশি বিমান বাহিনীর EC725 ও AW139 হেলিকপ্টারগুলো মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ এবং রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের অন্যান্য ফ্লাইং অ্যাসেটের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফ্লাইপাস্টে অংশ নেয়।
দাতারান পুত্রাজায়ায় উপস্থিত হাজার হাজার দর্শনার্থীদের প্রতিটি ফ্লাইপাস্ট করতালি ও আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়। আনন্দ এবং জাতীয় নিরাপত্তার অনন্য সংমিশ্রণে এই আয়োজনটি চলতি বছরের জাতীয় দিবস উদযাপনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশনা শুধু উপস্থিত দর্শকদের বিনোদনই নয়, বরং দেশের আকাশসীমা রক্ষায় মালয়েশিয়ার বিমান বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও প্রস্তুতির এক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।