পাঁচ দফা দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ সমমনা ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো নতুন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান—
২০ অক্টোবর রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
২৫ অক্টোবর দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল।
২৭ অক্টোবর সব জেলা শহরে একই কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে দাবি না মানা হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
লিখিত বক্তব্যে ড. আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এজন্য পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন।
পাঁচ দফা দাবি
১️⃣ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি ও আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে ওই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজন।
২️⃣ আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু।
৩️⃣ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪️⃣ ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৫️⃣ স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।
ড. আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, “জনগণের দাবি কার্যকর না হলে গণআন্দোলনের বিকল্প নেই। তাই জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও তার ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।”