নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপাল, চায়নার সীমান্তের বেশ কয়েকটি গ্রাম। স্মরণকালের ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় ছাড়াও নিখোঁজ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও। নেপালে নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের সন্ধান না পেয়ে উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে মালেয়শীয় পরিবারগুলো।
বুধবারের ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৩০টিরও বেশি দেশের ৫৩৭ জন বিদেশির মধ্যে, ৫১ জন মালেয়শীয়কে তালিকাভুক্ত করেছে নেপাল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশটির সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের অধীন, পর্যটন বিভাগের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নদের তালিকা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালের ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন পর্যন্ত উদ্ধারকৃত ৩১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে কোনো মালেয়শীয়ান আছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য যাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। নেপালে ভ্রমণরত যেসব মালয়েশিয়ার নাগরিকদের তথ্য এখনও নথিভুক্ত করা হয়নি, তাদের বিস্তারিত জমা দিতে পরিবারগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরেশনস রুমে টেলিফোন (+৬০৩ ৮৮৮৭ ৪৫৭০) অথবা ইমেইলের (dutyofficer@kln.gov.my) মাধ্যমে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে যারা এই মুহূর্তে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে, বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে নেপাল। দেশটির সরকার বলছে, নেপালের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম। এর বদলে নগদ অর্থ সহায়তা চাইছে দেশটি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনর্গঠন পর্যায়ে বাড়তি আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা চাওয়া হবে।
উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণ অতীত অভিজ্ঞতা, এমনটা জানিয়েছেন নেপালের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার আলোকেই নেপাল সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সময় বিদেশি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলের ঢল এবং দেশগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতার কারণে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তাই নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।