দোহা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম দোহায় আয়োজিত জরুরি আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে জোরালো ভাষায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দোহায় বিমান হামলা “আইনবহির্ভূত, বর্বরোচিত এবং অগ্রহণযোগ্য”। কাতারের রাজধানীতে বোমা বর্ষণ শুধু একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আনোয়ার উল্লেখ করেন, কাতার দীর্ঘদিন ধরে সংলাপ ও শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। তাই এই হামলা প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে। “কাতারের ওপর আক্রমণ মানে আমাদের সবার ওপর আক্রমণ,” তিনি সতর্ক করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গাজায় এখনো নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চলছে—পরিবার নিশ্চিহ্ন, হাসপাতাল ধ্বংস, শিশু ও নারী ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ছে। একইসঙ্গে পশ্চিম তীরে দখলদারিত্বের রাজনীতি চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক এমনকি ইরানেও হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি এসবকে “সভ্যতা ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা” বলে অভিহিত করেন।
আনোয়ার ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে অস্বীকার করা মানে স্থায়ী বর্ণবৈষম্যের ঘোষণা দেওয়া এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের সরাসরি অস্বীকার।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু নিন্দা নয়, বাস্তব পদক্ষেপের সময় এসেছে।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে,কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করতে হবে, আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থার মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে,এবং গাজায় পৌঁছানো মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
“নিন্দা ক্ষেপণাস্ত্র থামাতে পারবে না, ঘোষণা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে পারবে না। আমাদের সাহস নিয়ে কাজ করতে হবে,” তিনি বলেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম তার বক্তব্য শেষ করেন এই প্রার্থনা দিয়ে: “আল্লাহ আমাদের কাজ করার সাহস এবং সহ্য করার শক্তি দান করুন।”
এই ভাষণ আরব ও ইসলামি বিশ্বে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও সমন্বিত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানকে জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।