চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) এর মধ্যে দুই দফায় পতাকা বৈঠকের পরেও সুরাহা হয়নি শূন্যরেখায় ২৮ নারী পুরুষকে পুশইনের ঘটনা। বিএসএফের ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা শূন্য রেখায় অবস্থান করছে।
এদিকে, সীমান্তে জনবল বৃদ্ধিসহ কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। তবে পতাকা বৈঠকে রাতের অন্ধকারে পুশইনের কথা স্বীকার করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিএসএফ।
বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, রাতের অন্ধকারে ঠেলে পাঠানোর পর বিজিবির প্রতিরোধে ওই নারী-পুরুষ জোরপূর্বক, এমনকি মারধর করেও পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে কোনভাবেই তাদেরকে অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হবে না। সীমন্ত লাইট অফ করে কাটাতাঁরের বেড়ার গেইট খুলে তাদেরক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য ঠেলে দেয়া হয় বলে জানান বিজিবি অধিনায়ক।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তারা ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য দুই দেশের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ভোররাতের দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায় ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।
এদিকে, খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রবেশরোধে কঠোর অবস্থান নেয়। বিজিবি সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশ ভূখন্ডে আসতে পারেনি। ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশু রয়েছে।