যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ইসরায়েলের পক্ষে যাচ্ছে না। পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়ে নিজেদের নিরাপদ করতে চায় দেশটি। তবে সে আশায় গুঁড়েবালি। উল্টো নিরাপত্তা শঙ্কায় ইসরায়েলি নাগরিকরা ক্রমেই দেশ ছাড়ার পথে হাঁটছেন। ইসরায়েলি পার্লামেন্টের (নেসেট) নির্দেশে পরিচালিত এক গবেষণায় সম্প্রতি এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গত বুধবার (৩ জুন) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলে যত মানুষ এসেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। যারা দেশ ছেড়েছেন তাদের প্রায় অর্ধেকই উচ্চশিক্ষিত তরুণ।
গবেষণায় জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশত্যাগের এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলে ফিরে আসা নাগরিকদের সংখ্যাও অনেক কমে গেছে।
২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজারেও বেশি ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন, যা ২০০৯-২০২১ সালের তুলনায় অনেক বেশি। গবেষণা অনুযায়ী, বছরে গড়ে ৪০ হাজার মানুষ দেশ ছাড়ছেন। বর্তমানে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া এবং ফিরে আসার মধ্যকার নেট পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজারে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, দেশত্যাগকারীদের ৪৮ শতাংশেরই বয়স ২০ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। অথচ সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই বয়সসীমার মানুষের হার মাত্র ৩২ শতাংশ। ২০২২ সাল থেকে দেশত্যাগকারীদের মধ্যে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশের ব্যাচেলর ডিগ্রি, ২১ দশমিক ৫ শতাংশের মাস্টার্স ডিগ্রি এবং ৩ দশমিক ৭ শতাংশের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। বিশেষ করে গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার মতো বিষয়ের স্নাতকদের দেশ ছাড়ার হার অনেক বেশি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে যারা দেশ ছেড়েছেন, তাদের মধ্যে ৫২ শতাংশেরই জন্ম ইসরায়েলে এবং বাকি ৪৮ শতাংশের জন্ম বিদেশে। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেসেট সদস্য গিলাদ কারিভ ওয়াইনেটকে বলেন, ‘আগামী দিনের বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তারা জনসংখ্যার হারের তুলনায় অনেক বেশি গতিতে ইসরায়েল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।’ তিনি এটিকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘কৌশলগত হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেন।