ব্যাংকক, ৬ জুন — মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, যিনি বর্তমানে আসিয়ানের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত বিরোধ নিয়ে জরুরি আলোচনার জন্য ব্যাংককে পৌঁছেছেন। তিনি থাই প্রধানমন্ত্রী পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আগামী ১৪ জুন কম্বোডিয়ার নমপেন-এ অনুষ্ঠেয় থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া যৌথ সীমান্ত কমিশনের (JBC) বৈঠকের পূর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করা হবে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আনোয়ার নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি পেতংটার্নের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। আলোচনার ফলাফল শেষে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।
আসিয়ান চেয়ার হিসেবে মালয়েশিয়া পুরো পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে এবং বিরোধ যাতে আর না বাড়ে সে লক্ষ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২৮ মে থাইল্যান্ড, কাম্বোডিয়া এবং লাওসের মিলনস্থল এমেরাল্ড ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এক কাম্বোডিয়ান সেনা নিহত হন, যা এই কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের পেছনে মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছে।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম The Edge-এর বরাতে জানা গেছে, আনোয়ারের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দুই পক্ষকেই আসিয়ানের সংলাপ ও সহযোগিতার নীতির আওতায় শান্তিপূর্ণ আলোচনায় ফিরে আসতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী JBC বৈঠকে মূলত সীমান্ত নির্ধারণ এবং বিরোধপূর্ণ এলাকায় সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, আনোয়ারের মধ্যস্থতা থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করবে।
উল্লেখ্য, এমেরাল্ড ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত বিরোধের জন্য আলোচিত, তবে আসিয়ান এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করছে।