শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালীতে নতুন ‘নিয়ম’ ঘোষণা ইরানের, সব জাহাজে কঠোর নিয়ন্ত্রণ মিয়ানমার আউং সান সু চির সাজা কমাল, হাজারো বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা কুয়ালালামপুরে সশস্ত্র ডাকাতি মামলায় ডিএসপি সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১৩টি ‘হটস্পট’ পেট্রোল স্টেশনে কড়া নজরদারি, জ্বালানি পাচার রোধে পুলিশের অভিযান জোরদার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ‘শেষের পথে’, বিশ্বকে ‘দুই অসাধারণ দিনের’ প্রস্তুতির আহ্বান ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সক্রিয় তুরস্ক, আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের পেনাংয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২, জব্দ ৩ লাখ রিঙ্গিতের বেশি মূল্যের মাদক ও সম্পদ কুয়ালালামপুরে আটক মানবপাচার চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’১১১টি পাসপোর্ট, ১০টি ল্যাপটপ, ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে হুন্ডি চক্র ফের সক্রিয়, বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাবের শঙ্কা” মালয়েশিয়ায় উন্মুক্ত শ্রমবাজার,হাইকমিশনে বহাল তবিয়তে দুর্নীতির বরপুত্র তিন খলিফা

জুলাই সনদ,বাড়ছে বিতর্ক: ঐক্যের সনদ নাকি বিভেদের রূপরেখা?

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫

জুলাই সনদ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক: ঐক্যের বদলে বিভাজন তৈরি করছে ঐকমত্য কমিশন?

📅 প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | 📰 রাজনীতি ডেস্ক, PBN News 24

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করবে। তবে শেষ মুহূর্তে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেক দলই এখন প্রশ্ন তুলছে—এই সনদ সত্যিই ঐক্যের প্রতীক, নাকি বিভেদের নতুন উপকরণ?

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সনদের একটি কপি পাঠানো হয়। কিন্তু বেশ কয়েকটি দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, সনদের খসড়া পড়ে মনে হচ্ছে ঐকমত্যের বদলে কমিশন যেন বিভাজন তৈরিতে বেশি আগ্রহী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক চুক্তি ছিল—যেসব বিষয়ে সব দল একমত, কেবল সেগুলোই সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু কমিশনের পাঠানো খসড়ায় অনৈক্যের বিষয়গুলোও যুক্ত করা হয়েছে, এমনকি কোন দল কোন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংবিধান সংশোধন ও উচ্চকক্ষ প্রসঙ্গ

জুলাই সনদের ৪ নম্বর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ও উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পৃথিবীর কোনো দেশে উচ্চকক্ষকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয় না।

বিএনপিসহ কয়েকটি দল এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে, কারণ এখনো উচ্চকক্ষ গঠিতই হয়নি। তাদের মতে, উচ্চকক্ষের গঠন ও দায়িত্ব নির্ধারণের কাজ জনগণের নির্বাচিত সংসদের।

রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতা ও সমালোচনা

১১ নম্বর প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতির হাতে ছয়টি কমিশন গঠনের একক ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে—যেমন মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন, তথ্য কমিশন ইত্যাদি।

এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষমতাও রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিএনপি ও অন্যান্য দল বলছে, এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থি।

দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে মতভেদ

১৫ নম্বর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিশ্বের প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রথার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পিআর পদ্ধতি

১৬ নম্বর প্রস্তাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত জটিল করা হয়েছে, যা বিএনপিসহ কয়েকটি দল প্রত্যাখ্যান করেছে।

তারা বলছে, ২০১১ সালের সংবিধানে যে ব্যবস্থা ছিল, সেটিই পুনর্বহাল করা যথেষ্ট হতো।

অন্যদিকে, কমিশন প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিকে সামনে এনে বিতর্ক বাড়িয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী কৌশলগতভাবে এই পদ্ধতিকে সমর্থন করলেও, বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দিহান।

২৬ নম্বর প্রস্তাবে সব আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক চুক্তিই গোপনীয়, এবং এভাবে সংসদীয় অনুমোদন বাধ্যতামূলক করলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রস্তাব, তিনটি আলাদা কর্মকমিশন গঠন এবং বার কাউন্সিল নির্বাচনে হস্তক্ষেপের প্রস্তাবগুলোও “অবাস্তব ও অপ্রয়োজনীয়” বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদের মূল চেতনা হওয়া উচিত ছিল “ঐক্যের বাংলাদেশ গঠন”—কিন্তু বর্তমান খসড়ায় তা থেকে সরে গিয়ে দলীয় মতপার্থক্যকে সামনে আনা হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, যদি বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও অন্যান্য দল ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাবেই অনড় থাকে, তাহলে সনদের কার্যকারিতা কীভাবে নিশ্চিত হবে?

সবশেষে তারা বলেন, এই সনদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত গণতন্ত্রে উত্তরণ, যেখানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ঠিক করবেন, আগামী বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »