টোকিও: রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কামচাটকা উপদ্বীপের উপকূলে মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে এক মিটার উচ্চতার বেশি সুনামি ঢেউ আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইওয়াতে প্রিফেকচারের একটি বন্দরে ১.৩ মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ঢেউ দেখা গেছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে যে, ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামির উচ্চতা ৩ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে বা নির্ধারিত সুরক্ষিত ভবনে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। গরম আবহাওয়া সত্ত্বেও তাদের সেখানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১১টা ২৪ মিনিট GMT-তে (স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২৪ মিনিট) এই ভূমিকম্পটি কামচাটকা উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দূরে এবং প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৮.০ রিখটার স্কেল নির্ধারণ করা হয়।
এটি ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে একটি এবং পরিমাপ শুরুর পর থেকে মাত্র পাঁচটি ভূমিকম্প এটিকে ছাড়িয়ে গেছে বলে USGS জানিয়েছে।
সরকারি এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি।
আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে যে, সুনামি কার্যক্রম একদিন বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে এবং জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সাধারণত বড় সুনামির আগে কয়েকটি ছোট ঢেউ দেখা দিতে পারে, তাই প্রথম ঢেউ পার হয়ে যাওয়ার পরও নিরাপদ মনে না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে জাপানজুড়ে মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বুধবার হিয়োগো অঞ্চলের তাম্বা শহরে রেকর্ড ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপকূলীয় এলাকায় জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সুনামি সতর্কতা কমপক্ষে আরও একদিন বহাল থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।







