গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তির পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহু একটি বেশ জটিল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতার মুখে পড়েছেন। যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি যদিও সরকার বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করেছে, অনেক পর্যবেক্ষক এটিকে বাধ্যবাধকতার ফল বলেও দেখছেন। প্রতিবেদনে আলোচ্য হয়েছে নেটানিয়াহুর সামনে ছয়টি বড় সমস্যা যা এই যুদ্ধবিরতির ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
নিচে সেসব চ্যালেঞ্জ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো —
১.
আন্তর্জাতিকভাবে একাকিত্ব ও সঙ্কীর্ণ গ্রহণযোগ্যতা
গত দুই বছরে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানের কারণে হাজার হাজার প্যালেস্টিনীয় নিহত হয়েছেন এবং নানান মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েল ও নেটানিয়াহুর অবস্থান অনেকটাই নাজুক হয়ে পড়েছে।
২.
দক্ষিণপন্থী জোটের উদ্বেগ ও দলে অজ্ঞাত ভবিষ্যত
নিটানিয়াহু জোট সরকারের অংশ হিসেবে অনেক স্থানে দক্ষিণপন্থী দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে কয়েকটি মিত্র দল নীরব বা সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে মনোমালিন্য এলে জোট ভেঙে যেতে পারে।
৩.
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও বিচারপ্রক্রিয়া
নিটানিয়াহু ও ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ও আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) এর তদন্ত ও অভিযোগাভুক্তির মুখোমুখি হতে পারে। যুদ্ধবিরতির পর এসব মামলা আরও জটিলভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
৪.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভূমিকা ও সমর্থন
মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের প্রধান জোট বা বন্ধুরূপে বিবেচিত হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ মনোভাবও দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া ও পরবর্তী কূটনৈতিক অবস্থার কারণে মার্কিন সমর্থন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
৫.
অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও দায়িত্বনির্ধারণ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস অভিযানের প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা তথ্যগোপন ভুল-ত্রুটির জন্য ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের পদত্যাগ এবং নানা তদন্ত শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর, সরকারের ওপর তাদের দায় নিরূপণ ও প্রকাশ্য তদন্তের চাপে রয়েছে।
৬.
দণ্ডবিধি ও পুলিশ-নিরাপত্তা প্রক্রিয়া
যুদ্ধবিরতির অতিথিয়ালয়ে নেতিনিয়াহু বিরোধীদের সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখে দণ্ডবিধি প্রয়োগের পুনরুজ্জীবনের সুযোগ থাকতে পারে। এর ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনি নিরাপত্তা ইস্যু আরো জটিল হতে পারে।
নেতিনিয়াহু যুদ্ধবিরতির পর বিজয় ঘোষণা করলেও, এই চ্যালেঞ্জগুলো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে তার সময়কে কঠিন করে দিতে পারে। আগামী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে তার নেতৃত্ব ও জোট কণিষ্ঠতা পরীক্ষার মুখে পড়বে।