কুয়ালালামপুর, ২৪ আগস্ট : ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা লাঘবে মালয়েশিয়া আরও ১০ কোটি রিঙ্গিত (১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত) অনুদান দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

রবিবার রাতে দাতারান মেরদেকায় এক সংহতি সমাবেশে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে গাজাবাসীর জন্য মালয়েশিয়ার মোট সহায়তার অঙ্ক দাঁড়াল ২০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছিল।
আনোয়ার বলেন, “আজ রাতে আমি ঘোষণা করছি যে মালয়েশিয়া আরও ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত অনুদান দেবে। আমি দেশবাসীকে অনুরোধ করছি—আমরা যেন এই দেশের শান্তি ও স্বাধীনতাকে মূল্য দেই এবং তা সর্বজনের জন্য রক্ষা করি।”
ইসরায়েলের প্রতি কঠোর সমালোচনা
তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী গাজার মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের জন্য ইসরায়েল সরকারকে তীব্রভাবে দোষারোপ করেন।
তিনি বলেন, “সব ধরনের সহায়তা পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এসব জায়নিস্টরা সাহায্য নষ্ট হতে দিলো। মানুষ ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে, কিন্তু খাবার ও ওষুধ সীমান্তেই আটকে রাখা হয়েছে। এ কেমন মানুষ? এরা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট! আমি ৭৮ বছরে এমন নিষ্ঠুরতা দেখিনি। নেতানিয়াহু ও তার সহযোগীরা উন্মাদ এবং শয়তান।”
ফিলিস্তিনের প্রতি অবিচল সমর্থন:

আনোয়ার পুনর্ব্যক্ত করেন যে মালয়েশিয়া কখনো ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে তাদের একা ছেড়ে দেবে না।
তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের সংগ্রামী চেতনার প্রতি স্যালুট জানাই। আমরা কখনো আপনাদের ত্যাগ করবো না। মালয়েশিয়ার জনগণ এবং বিশ্বের বহু দেশ আপনাদের পাশে আছে।”
তিনি আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন, যুবক বয়স থেকেই তিনি ফিলিস্তিনের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে প্রয়াত ইয়াসির আরাফাতের আমন্ত্রণে তিনি আলজেরিয়ায় ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) সম্মেলনে অংশ নেন। “এখন ২০২৫ সালেও সেই সংগ্রাম অব্যাহত,” মন্তব্য করেন আনোয়ার।
সংহতি সমাবেশ ও ‘সুমুদ নুসান্তারা কনভয়’
রবিবারের সমাবেশে হাজারো মানুষ অংশ নেন। তারা সাদা পোশাক পরে এবং #GazaBangkit লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে গাজাবাসীর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক ফাহমি ফাদজিল, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের (ফেডারেল টেরিটোরিজ) মন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জালিহা মোস্তাফা এবং সরকার প্রধান সচিব তান শ্রী শামসুল আজরি আবু বাকার।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘সুমুদ নুসান্তারা কনভয়’ উদ্বোধন করেন। এতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডসহ আটটি দেশ অংশ নেবে।
দুটি দলে বিভক্ত এই কনভয় ৩১ আগস্ট ও ৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করবে। একটি দল স্পেন এবং অন্যটি তিউনিসিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। পরে তারা গ্লোবাল ফ্লোটিলা মিশনে যোগ দিয়ে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফ্লোটিলা অভিযান, যেখানে ৫০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে ডজনখানেক জাহাজ যুক্ত হবে।