রেমবাউ, ১২ অক্টোবর : গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া বেসরকারি সংগঠনগুলোকে (এনজিও) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (উইসমা পুত্রা) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান (টোক মাত)।
রবিবার (১২ অক্টোবর) রেমবাউ এলাকায় শিক্ষা ও দীপাবলি উপলক্ষে এক হাজারেরও বেশি উপকারভোগীর মাঝে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার মিসর ও জর্দানের সঙ্গে দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিশেষ করে রাফাহ সীমান্ত (মিসর-গাজা) এবং কিং হুসেইন ব্রিজ (জর্দান-ওয়েস্ট ব্যাংক) পথের মাধ্যমে।
“যারা গাজার নিপীড়িত মানুষদের সাহায্য করতে চান, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে সহায়তা পাঠানো উচিত সংগঠিতভাবে, ব্যক্তিগত বা বিশৃঙ্খল উপায়ে নয়,” বলেন টোক মাত।
তিনি আরও জানান, এনজিওগুলো তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করলে উইসমা পুত্রা সংশ্লিষ্ট দেশের (মিসর ও জর্দান) কর্তৃপক্ষকে জানাবে, যাতে সহায়তা প্রেরণের প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুমুদ নুসান্তারাসহ কিছু মালয়েশিয়ান এনজিও দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে কাজ করছে। তাদের নিজস্ব গুদামঘর মিসরে রয়েছে, যেখানে ত্রাণসামগ্রী সংরক্ষণ করে গাজায় পাঠানো হয়, যদিও বর্তমানে রাফাহ সীমান্ত বন্ধ রয়েছে।
গাজা শান্তি পরিকল্পনা বিষয়ে টোক মাত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি গ্রহণ করায় হামাসের সিদ্ধান্তকে মালয়েশিয়া স্বাগত জানায়। তিনি একে “মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ” বলে অভিহিত করেন, যদিও ২০ দফা প্রস্তাবে ইসরায়েলের পক্ষেই বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
“হামাস যদি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করত, তাহলে গাজাবাসীরা আন্তর্জাতিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতো এবং অব্যাহত হামলার মুখে হয়তো অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হতো,” মন্তব্য করেন তিনি।
টোক মাত আরও বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকের আহ্বান অব্যাহত রাখবে, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এছাড়া, আসন্ন ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন সম্পর্কে তিনি জানান, কোন রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে তা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে টোক মাত বলেন, মালয়েশিয়া এককভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তবে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ সরাসরি আলোচনা ও পারস্পরিক স্বার্থে উপকারী হতে পারে।
“আমরা চাই, আন্তর্জাতিক চাপ যেন ইসরায়েলের ওপর অব্যাহত থাকে এবং খুব শিগগিরই একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়,” বলেন তিনি।
৪৭তম আসিয়ান সম্মেলন চলতি মাসের শেষের দিকে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হবে।