গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোট্রিলা বহরের উপর হামলা চালিয়ে অন্তত ৪০০ আন্তর্জাতিক কর্মী ও মানবাধিকার কর্মীকে আটক করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান রাতভর চলে এবং বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ইসরায়েলের শায়েতেত ১৩ নৌ কমান্ডো ইউনিটসহ বিভিন্ন বাহিনী ৪১টি জাহাজ আটক করে। এর আগে ফ্লোট্রিলাকে পথ পরিবর্তনের জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী সিগন্যাল জ্যামিং, ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে এবং জোরপূর্বক জাহাজে ওঠে তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আটক ব্যক্তিরা সবাইকে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেখান থেকে তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।
আটক হওয়া কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, ফরাসি রাজনীতিবিদ মারি মেসম্যুর, ফ্রাঙ্কো-ফিলিস্তিনি ইউরোপীয় সংসদ সদস্য রিমা হাসানসহ ইউরোপের কয়েকজন আইনপ্রণেতা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনারা থুনবার্গকে গ্রেপ্তারের পর তার মালপত্র ফিরিয়ে দিচ্ছে।
আয়োজকদের দাবি, ফ্লোট্রিলায় অন্তত ৫০০ কর্মী ও ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি ছিলেন। তারা গাজার মানুষের জন্য ওষুধ ও মানবিক সহায়তার প্রতীকী চালান বহন করছিলেন। আয়োজকরা এই আটককে “শান্তিপ্রিয় কর্মীদের অপহরণ” আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইসরায়েল তাদের পদক্ষেপকে “প্ররোচনা” হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে যে কোনো জাহাজ গাজার জলে প্রবেশ করতে পারেনি। কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চাইলে সাহায্য বৈধ সীমান্তপথে পাঠানো সম্ভব ছিল।
ফ্লোট্রিলাটি গত মাসে স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গাজামুখী মানবিক বহর ছিল। প্রায় ৫০টি জাহাজের মধ্যে কয়েকটি আটক হওয়ার আগেই ফিরে যায়।
অভিযানের সময় গাজা থেকে আশদোদের দিকে রকেট হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনারা জানায়, এর বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আটকানো হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আগে থেকেই এই বহরে হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তারা বলছে, গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে যেখানে গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
এটি চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ের পর তৃতীয়বারের মতো গাজামুখী ফ্লোট্রিলা আটক করল ইসরায়েল, যা দেশটির অবরোধ নীতির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সমালোচনা আরও তীব্র করেছে।