মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির সব রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কর আদায়ের তুলনায় বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধু সেলাঙ্গর ও পেনাং।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, কিছু রাজ্যকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এমন অভিযোগ সরকারি তথ্য উপাত্ত সমর্থন করে না। বরং তাঁর সরকারের আমলে প্রতিটি রাজ্য আগের তুলনায় বেশি বরাদ্দ পেয়েছে।
তিনি জানান, সেলাঙ্গর ২০২৩-২০২৫ সময়ে গড়ে ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন রিঙ্গিত কর দিয়েছে। বিপরীতে রাজ্যটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় ছিল ১৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত। একই সময়ে পেনাং থেকে গড়ে ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত কর আদায় হলেও ব্যয় হয়েছে ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত।
অন্যদিকে, কেলান্তান থেকে গড়ে ৯৪৬ মিলিয়ন রিঙ্গিত কর আদায় হলেও সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যয় হয়েছে ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত। কেদাহতে কর আদায় ছিল ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত, আর ব্যয় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত।
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, তেরেঙ্গানুতে কর ও পেট্রোলিয়াম আয় মিলিয়ে রাজস্ব ছিল ২ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত, কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন রিঙ্গিতে। পেরলিস ৪১৯ মিলিয়ন রিঙ্গিত কর দিলেও পেয়েছে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন রিঙ্গিত এবং জোহর প্রায় ১৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত করের বিপরীতে ১৬ বিলিয়ন রিঙ্গিত ব্যয় পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনসেবার প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার সব রাজ্যের বরাদ্দ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ইকোলজিক্যাল ফিসক্যাল ট্রান্সফার (ইএফটি) ও ক্যাপিটেশন অনুদানও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, কিছু রাজ্যকে অবহেলা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বর্তমান মাদানি সরকারের সময়েই কয়েকটি রাজ্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে।