কুয়ালালামপুর: প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এশীয় ইতিহাসের একটি গভীর ও বিস্তৃত অনুধাবনের আহ্বান জানিয়েছেন, যা পশ্চিমা ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে স্থানীয় বীর ও নেতাদের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেয়।
মঙ্গলবার রাতে ইসলামিক আর্টস মিউজিয়াম মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত “More Than A Day As A Tiger“ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা মাইসোরের শাসক টিপু সুলতান ও তার পিতা হায়দার আলীর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
“ইতিহাস সবসময় সুবিচার করে না। আমাদের এক বিদ্বান সৈয়দ হুসেইন আলআতাস বলেছিলেন, ইতিহাসকে পুনর্গঠন করতে হবে, কারণ ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে লেখা যায় না, ঔপনিবেশিকদের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নয়,” বলেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার ইতিহাসসহ বহু এশীয় দেশের ইতিহাস মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গিতে লেখা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রতিরোধের কাহিনিগুলো উপেক্ষিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ভারতের মাইসোর সফর করেন এবং সেখানকার ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন। তিনি বলেন, টিপু সুলতান শুধুমাত্র মুসলিম শাসক ছিলেন না, বরং হিন্দু মন্দির রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, টিপু সুলতান ব্রিটিশদের মোকাবেলায় সামরিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেন এবং তার সুলতানাতের কামান ও অস্ত্রশস্ত্র ব্রিটিশ বাহিনীকে বিস্মিত করে দেয়। পাশাপাশি তিনি ফরাসিদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলারও চেষ্টা করেন।
“এই প্রদর্শনী শুধু একটি সাধারণ প্রদর্শনী নয়, বরং ভারতের ইতিহাস, মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ,” বলেন তিনি।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল, আলবুখারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তান সেরি সৈয়দ মোখতার আলবুখারী, বেরনামার চেয়ারম্যান দাতুক সেরি ওং চুন ওয়াই এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধি সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীতে হায়দার আলী ও টিপু সুলতানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি, অস্ত্রশস্ত্র এবং শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এটি আগামীকাল ৬ আগস্ট ২০২৫ থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ইসলামিক আর্টস মিউজিয়াম মালয়েশিয়ার স্পেশাল গ্যালারি ২-তে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই প্রদর্শনী মালয়েশিয়ানদের ইতিহাসচর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং এশিয়ার গৌরবময় অতীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে।