কুয়ালালামপুর, ৫ সেপ্টেম্বর : প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম আজ সকালে মৌলিদুর রাসূল (সা.) উদযাপনের পর মসজিদ জামে বান্দার বারু শ্রী পেতালিং-এ জুমার নামাজ আদায় করেন। এ সময় তিনি শত শত তাবলিগ জামাতের সঙ্গেও একত্রে ইবাদত করেন।
নামাজ শেষে আয়োজিত “তেমু মেসরা মাদানি” অনুষ্ঠানে, যা পরিচালনা করে ফেডারেল টেরিটরিজ মুফতি দপ্তর, প্রধানমন্ত্রী একটি তাউসিয়াহ (বক্তৃতা) প্রদান করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) হচ্ছেন মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ আদর্শ এবং তার শিক্ষা থেকেই শক্তি, ঐক্য ও সংগ্রামের চেতনা আহরণ করতে হবে।

আনোয়ার ইব্রাহিম ঐতিহাসিক উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সালাহউদ্দিন আল-আয়ুবি মসজিদকে জীবন্ত করেছিলেন, উম্মাহর মধ্যে জিহাদের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন এবং জ্ঞান ও ঐক্যের মাধ্যমে মুসলমানদের এমনভাবে শক্তিশালী করেছিলেন যে তারা পুনরায় বাইতুল মুকাদ্দাস জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আজকের দিনে অনেকেই জ্ঞান রাখেন কিন্তু সচেতনতার অভাব রয়েছে, আবার অনেকে সচেতন হলেও সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস পান না।
প্রধানমন্ত্রী কোরআনের সূরা আল-আনকাবুত (৬৯)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন:
“যারা আমাদের পথে মেহনত করে, আমরা অবশ্যই তাদেরকে আমাদের পথ দেখাই, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গী।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাদানি রাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্লোগান নয়, বরং এটি ঈমান, ইহসান, রহমত ও ন্যায়বিচারের সমন্বয়ে গঠিত। এর লক্ষ্য হলো—উন্নয়ন যেন নৈতিকতা, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সমন্বিত হয়।
আনোয়ার উদাহরণ হিসেবে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ নীতির মধ্যে ইহসানের নীতি প্রতিফলিত হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার সমালোচনা ও সংশোধনকে স্বাগত জানায়, তবে তা অবশ্যই শালীনতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে হতে হবে, অপবাদ বা গালাগালি নয়।
“আমরা যদি পারস্পরিক পরামর্শ ও নসিহতের চেতনা বজায় রাখি, তাহলে উম্মাহ, পরিবার ও সমাজের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারব,” – বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মসজিদ জামে শ্রী পেতালিংয়ের ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে আনোয়ার বলেন, উলামা ও আলেমদের দাওয়াহ এবং হিকমতের মাধ্যমে সমাজে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আজও অনুসরণের যোগ্য।
তিনি দোয়া করেন, মালয়েশিয়া মাদানি যেন সর্বদা ঈমান, জ্ঞান ও আখলাকের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে প্রতিষ্ঠিত হয়।