কুয়ালালামপুর: প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া নয়জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সহায়তার জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এই নয়জন মালয়েশিয়ান “ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন থাউজ্যান্ড ম্যাডলিনস টু গাজা (FFC x TMTG)” নামের একটি মানবিক মিশনে অংশ নিয়েছিলেন, যা গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়।
“আমাদের নয়জন বীর ও বীরাঙ্গনা নিরাপদে তুরস্কের ইস্তানবুলে পৌঁছেছেন,” শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান আনোয়ার।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সরকার দ্রুতই তাদের মালয়েশিয়ায় ফেরানোর ব্যবস্থা করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটক মালয়েশিয়ানদের ইসরায়েল থেকে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের TK6921 ফ্লাইটে করে বহিষ্কার করা হয়, এবং তারা মালয়েশিয়ার সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ইস্তানবুলে পৌঁছান।
প্রায় ২৫টি দেশের ১৫০ জন মানবাধিকার কর্মী নিয়ে গঠিত এই FFC x TMTG মানবিক বহরে নয়টি জাহাজ ছিল, যেগুলো গাজায় সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। তবে, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে জায়গায় তাদের ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করে। পরে তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে নেগেভ মরুভূমির কেটজিওট কারাগারে পাঠানো হয়।
‘কনসায়েন্স’ (Conscience) নামের জাহাজে থাকা মালয়েশিয়ানদের মধ্যে ছিলেন
প্রফেসর এমিরেটাস ড. মোহদ আলাউদ্দিন (দলনেতা), ড. ফাউজিয়াহ মোহদ হাসান, ড. হাফিজ সুলায়মান, ড. ইলি শাকিরা মোহদ সুহাইমি, প্রফেসর ড. মোহদ আফান্দি সালেহ, ড. নূরহাশিমাহ ইসমাইল, নোরশাম আবু বকর, এবং অ্যাস্ট্রো আওয়ানির সাংবাদিক শাফিক শুকরি আবদুল জলিল।
অন্যদিকে ড. মাজিয়াহ মুহাম্মদ ছিলেন ‘উম্মে সা’দ’ (Umm Saad) জাহাজে।
মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, তুরস্কের সহযোগিতায় আটক নাগরিকদের মুক্তি ও প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অটল অবস্থান অব্যাহত থাকবে, এবং এ ধরনের মানবিক মিশন বিশ্বজুড়ে গাজার জনগণের প্রতি সহানুভূতি ও সংহতির প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।