তেহরান: ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং সিয়োনিস্ট শাসনের “পিঠ ভেঙে দেওয়া হবে” বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই ঘোষণা আসে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইরানভিত্তিক হামলার প্রতিক্রিয়ায়।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, “আমাদের জাতি একটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সম্মুখীন, যেখানে শত্রু আমাদের জনগণের শক্তি ও ধৈর্যকে টার্গেট করছে।”
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছি, কিন্তু আমাদের সব আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সামর্থ্য আমরা ব্যবহার করছি। আমাদের প্রতিরক্ষার পরিখা বিস্তৃত এবং সকল শ্রেণির মানুষ এই প্রতিরোধে যুক্ত।”
তালাই-নিক ইসরায়েলকে তীব্র ভাষায় অভিযুক্ত করেন নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য। তিনি বলেন, “প্রথম রাতেই শত্রু তার বর্বরতা দেখিয়েছে—নারী ও শিশুদের ওপর আঘাত হেনেছে।”
উত্তর তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়, যার মধ্যে ২০ জন শিশু এবং কয়েকজন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।
তালাই-নিক আরও জানান, মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রতিশোধমূলক হামলায় ইরান একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রথমবারের মতো ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা আমাদের একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছি, এবং সিয়োনিস্ট শাসন এখনো বুঝতেই পারেনি যে সেটি ব্যবহার হয়েছে। সামনে আরও চমক তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।”
এই হামলা ছিল “অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি”-এর নবম ধাপের অংশ, যা শুক্রবার রাতে শুরু হয় এবং এখনো চলছে। এই অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে “ইয়া আলি ইবনে আবি তালিব” কোডনামে। ইরান দাবি করেছে, ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন এবং উচ্চপর্যায়ের ইরানি সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যার জবাবেই এই ব্যাপক প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হচ্ছে।
তালাই-নিক বলেন, “শত্রু দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে পারবে না। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, সিয়োনিস্ট শাসনের পিঠ ততটাই ভেঙে যাবে।” ইরানি হামলার শক্তিশালী ধাপগুলো দেখার পর ইসরায়েল সরকার মঙ্গলবার ইরানি অভিযানের লাইভ সম্প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।