জাকার্তা, ৮ সেপ্টেম্বর : ইন্দোনেশিয়ার জনগণের অধিকাংশ মনে করেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর জোটের একচ্ছত্র ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য সংসদে একটি বিরোধী দলের উপস্থিতি জরুরি। সোমবার প্রকাশিত কোমপাস জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ১১ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ৫৮.৪ শতাংশ উত্তরদাতা সংসদে অন্তত একটি বিরোধী শক্তির উপস্থিতি চান। বর্তমানে প্রাবোওর মিত্ররা সংসদের প্রায় ৮১ শতাংশ আসন দখল করে রেখেছে যা ইন্দোনেশিয়ায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি অব স্ট্রাগল (পিডিআই-পি) বাকি আসনগুলোর মালিক হলেও তারা প্রকাশ্যে নিজেদেরকে বিরোধী দল হিসেবে ঘোষণা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সংসদে শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠস্বর না থাকার আশঙ্কা সম্প্রতি আরও জোরদার হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে সংসদ সদস্যদের জন্য বিশাল অঙ্কের আবাসন ভাতার খবর প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। পরবর্তীতে সরকার বিতর্কিত সুবিধা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
কোমপাস জরিপে ৩৮টি প্রদেশের মধ্যে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়, যেখানে ত্রুটির সীমা ধরা হয়েছে ৪.২ শতাংশ। জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোতে আস্থা রাখেন না। তাদের অভিযোগ— দুর্নীতি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং জনগণের সঙ্গে দুর্বল সম্পৃক্ততা।
জরিপে সমর্থকদের মধ্যে মতপার্থক্যও ধরা পড়ে। প্রাবোওর নিজের দল গেরিন্দ্রা ও তার মিত্র গোলকার সমর্থকেরা পিডিআই-পি-কে ক্ষমতাসীন জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। তবে অন্য দলগুলোর সমর্থকেরা মনে করেন, পিডিআই-পি-র বাইরে থেকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা উচিত যেমনটি তারা সুহার্তো ও সাবেক প্রেসিডেন্ট সুশিলো বাম্বাং ইউদয়োনোর সময় করেছিলেন।
যদিও পিডিআই-পি প্রধান মেগাওয়াতি সুকর্ণোপুত্রি আগস্টে এক বক্তৃতায় স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা বিরোধী দল হবে না। তার কিছুদিন পর প্রাবোও তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ক্ষমা ঘোষণা করেন, যিনি আগে কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন যা রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলে।
অগাস্ট ২৮ থেকে এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৩৫টি প্রদেশে অন্তত ২২৮টি বিক্ষোভ হয়েছে। তবে গত সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল।
এদিকে, সংসদের উপ-স্পিকার সুফমি দাসকো আহমাদ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যয় পর্যালোচনা শেষে সংসদ সদস্যদের ভাতা আরও কমানো হবে।
একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও বন্ধ দরজার আলোচনায় জানান, জনগণের কিছু দাবি যৌক্তিক, আবার কিছু দাবি বিতর্কযোগ্য। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ “অতিরিক্ত মাত্রায়” হয়েছে এবং কিছু গোষ্ঠী জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি শহরে সেনা মোতায়েনের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী হামলার হুমকি রয়েছে। তবে গণতন্ত্রকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবেই উল্লেখ করেন।
সাবেক সেনা জেনারেল প্রাবোও আইন প্রয়োগে ন্যায্যতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, কিছু কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কিংবা বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি একটি স্বাধীন তদন্ত দল গঠনের ব্যাপারেও ইঙ্গিত দেন।