কুয়ালালামপুর : আসিয়ান অর্থনৈতিক একীকরণে মালয়েশিয়া নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে দেশটি। ১৮টি অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা (Priority Economic Deliverables – PEDs)-এর মধ্যে সাতটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে, আর বাকি পাঁচটি আগামী ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের আগেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী তেংকু দাতুক সেরি জাফরুল আবদুল আজিজ।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ২৬তম আসিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটি (AEC) কাউন্সিলের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহজনক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বাকি ছয়টি PED-ও ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সফলভাবে সম্পন্ন হবে।”
তিনি জানান, মালয়েশিয়া নেতৃত্বাধীন এই ১৮টি PED-এর লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং ডিজিটাল সংযোগকে ত্বরান্বিত করা, যাতে আসিয়ানের প্রায় ৬৮ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়।
তেংকু জাফরুল বলেন, ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনের মধ্যে যেসব প্রকল্প সম্পন্ন হবে তার মধ্যে দুটি বড় অর্থনৈতিক চুক্তি রয়েছে — “দ্বিতীয় প্রোটোকল টু অ্যামেন্ড দ্য আসিয়ান ট্রেড ইন গুডস অ্যাগ্রিমেন্ট (ATIGA)” এবং “আসিয়ান-চীন ফ্রি ট্রেড এরিয়া (ACFTA) ৩.০ আপগ্রেড প্রোটোকল।”
তিনি বলেন, “এই দুটি চুক্তি আসিয়ানের অর্থনৈতিক সংহতিকে আরও গভীর করবে এবং বহিরাগত অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা জোরদার করবে। ভবিষ্যতমুখী বিধানসমূহের মাধ্যমে এই চুক্তিগুলো আসিয়ানের বাণিজ্য কাঠামোকে আরও টেকসই করবে এবং উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যব্যবস্থার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে পুনরায় নিশ্চিত করবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, মালয়েশিয়া আসিয়ান চেয়ারম্যানশিপের দায়িত্ব পালন করছে “অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন (Inclusivity and Sustainability)” প্রতিপাদ্যে, এবং ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিতব্য ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে ১০ সদস্যদেশের নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অংশীদাররাও অংশ নেবেন।