অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে অসাধারণ এক জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল। হাতে ছিল ৬ উইকেট, আর বাংলাদেশের চেয়ে তারা পিছিয়ে ছিল ৬৭ রানে। অপরাজিত ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি।
চতুর্থ দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ক্যারি ৩০, বো ওয়েবস্টার ৫ ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ৮ রান করে মিরাজের শিকার হন। এরপর মিচেল স্টার্ককে ১৮ রানে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।
অন্যদিকে সেঞ্চুরি করা ক্যামেরন গ্রিনকে ১০৪ রানে থামিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। শেষ ব্যাটার নাথান লায়নকে ১৫ রানে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। এতে ২৮৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৬ রান দিয়ে তিনি নেন ৫ উইকেট। হাসান মাহমুদ ৩টি এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজেলউডের বলে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান কোনো রান না করেই ফিরে যান।
তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারেই দলকে ঐতিহাসিক জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উইকেটটি নেন হ্যাজেলউড।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে বড় লিড নেয়। শেষ পর্যন্ত সেই লিডই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে।