কুয়ালালামপুর, ৫ জুলাই — দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া আগামী ৮ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৫৮তম আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক (AMM) ও সংশ্লিষ্ট সভাগুলোর আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনে নিরপেক্ষতা, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেবে মালয়েশিয়া।
আসিয়ান চেয়ার হিসেবে মালয়েশিয়া বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষা করে আসিয়ানের ঐক্য ও নেতৃত্বকে জোরদার করার কৌশল নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বৈঠকে সামুদ্রিক বিরোধ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচিতে থাকবে।
ইউনিভার্সিটি পারতাহানান ন্যাশনাল মালয়েশিয়া (UPNM)-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. নর আইশাহ হানিফা বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দেবে।
“মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে কৌশলগত হেজিং কৌশল অনুসরণ করবে এবং একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে,” — বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সক্রিয় বৈদেশিক যোগাযোগ মালয়েশিয়ার বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেরই প্রতিফলন।
“মধ্যম শক্তি হিসেবে মালয়েশিয়া উভয় দিকেই ভারসাম্য রেখে কূটনৈতিকভাবে চলার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে পারে,” — বলেন ড. নর আইশাহ।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ চীন সাগর সংকট মোকাবেলায় একটি আইনি বাধ্যতামূলক আচরণবিধি (COC) প্রণয়নের জন্য মালয়েশিয়া কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে।
“চীনের অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় আসিয়ান এখন কূটনৈতিকভাবে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি অর্জনের একটি সুযোগ পেতে পারে।”
আসিয়ান ও বহির্বিশ্বের মধ্যকার অংশীদারিত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিভূমি হবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক।
“যুক্তরাজ্য আসিয়ান-ইউকে ইকোনমিক ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রাম ও STEM স্কলারশিপের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করছে। অন্যদিকে, আসিয়ান-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে,” — বলেন তিনি।
ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (UPM)-এর মানব প্রতিবেশ অনুষদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. ফায়রুজ্জামান শাহারুদ্দিন বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সরবরাহ চেইন সংক্রান্ত সহযোগিতা বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।
“বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার মধ্যেও আসিয়ান কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখে কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করতে চাইবে,” — বলেন তিনি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
“এমন পরিস্থিতিতে আসিয়ানকে তার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও ঐক্য আরও মজবুত করতে হবে।”
৮ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে আসিয়ান ও তার ডায়ালগ পার্টনারদের মধ্যে ২৪টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। এতে ৩৫টিরও বেশি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
এই বৈঠকের মাধ্যমে আসিয়ান ভিশন ২০৪৫ অর্জনের পথে মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব এবং দিকনির্দেশনার রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।